দাবি ভারতের ভূখণ্ডের, কিন্তু আসল নথি কোথায়? নেপাল সরকারের চাঞ্চল্যকর তথ্য!

দাবি ভারতের ভূখণ্ডের, কিন্তু আসল নথি কোথায়? নেপাল সরকারের চাঞ্চল্যকর তথ্য!

নয়া দিল্লি / কাঠমান্ডু: ভারতের সীমান্তবর্তী লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাজলকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে নেপাল। কিন্তু সেই দাবির পক্ষে শক্ত পোক্ত কোনো প্রমাণ আদৌ কি তাদের কাছে আছে? এবার এই প্রশ্ন উঠতেই চরম অস্বস্তিতে পড়ল কাঠমান্ডু। নেপাল সরকার স্বীকার করে নিয়েছে যে, সীমান্ত নির্ধারণকারী ঐতিহাসিক চুক্তির আসল নথিপত্রই তাদের কাছে নেই!

উল্লেখ্য, ভারত ও নেপালের এই সীমান্ত বিরোধের শিকড় রয়েছে ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক ‘সগৌলি চুক্তি’-তে। দীর্ঘ দুই বছরের ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধের পর এই চুক্তির মাধ্যমেই কালী নদীকে দুই দেশের সীমান্ত হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল শান্তি চুক্তিতেও এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তবে মূল বিতর্কের সূত্রপাত কালী নদীর আসল উৎস নিয়ে:

  • নেপালের দাবি: কালী নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরায়, তাই লিপুলেখ, কালাজল ও লিম্পিয়াধুরা তাদের অংশ।
  • ভারতের স্পষ্ট অবস্থান: লিপুলেখের নিচের অংশ থেকে কালী নদীর সূচনা, তাই সমগ্র কালাজল অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

২০২০ সালে নেপাল একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে বিতর্কিত এলাকাগুলোকে নিজেদের বলে দাবি করার পর থেকেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে চিন ও ব্রিটেনের হস্তক্ষেপ দাবি করায় জল আরও ঘোলা হয়।

তবে এবার চরম চমক দিলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ১৮১৬ সালের সগৌলি চুক্তির কোনো মূল নথি নেপাল সরকারের হাতে আছে কিনা, তা তাদের জানা নেই! ন্যাশনাল আর্কাইভে কিছু কাগজ থাকলেও তা আসল চুক্তিপত্র কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *