লালকেল্লায় ইতিহাস! স্বাধীনতা দিবসে প্রথমবার ধ্বনিত হবে ‘বন্দে মাতরম’

নয়াদিল্লি: আগামী ১৫ই আগস্ট ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে জাতিকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবারের অনুষ্ঠানটি নানা দিক থেকে অনন্য হতে চলেছে। জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি পালনের পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে যুবশক্তির অবদানকে এই মঞ্চ থেকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।
বিবৃতি অনুযায়ী, এই প্রথমবার লালকেল্লার মূল আনুষ্ঠানিকতায় ‘বন্দে মাতরম’ সুর বাজানো ও গাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও গার্ড অফ অনার
প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ এবং প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং। এরপর দিল্লির জিওসি (GOC) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ শেঠি প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুটিং বেসে নিয়ে যাবেন। সেখানে সেনা, নৌ, বায়ুসেনা এবং দিল্লি পুলিশের একটি যৌথ দল তাঁকে জেনারেল স্যালুট প্রদান করবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল অর্জন সিং-এর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে প্রস্তুত এই ‘গার্ড অফ অনার’ কন্টিনজেন্ট পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ২১ তোপধ্বনি
গার্ড অফ অনার পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রীকে লালকেল্লার মূল মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) সহ তিন বাহিনীর প্রধানরা তাঁকে স্বাগত জানাবেন।
ক্যাপ্টেন সোনিয়া সিং চৌহান প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে সহায়তা করবেন। জাতীয় পতাকা তোলার সাথে সাথেই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০৫ মিমি লাইট ফিল্ড গান থেকে দেওয়া হবে ২১ তোপধ্বনি। এর নেতৃত্ব দেবেন মেজর পবন সিং শেখাওয়াত।
‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনা ও আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি
পতাকা উত্তোলনের পরপরই আর্মি ব্যান্ডের সুরে লালকেল্লা প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হবে ‘বন্দে মাতরম’। পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি Mi-17 হেলিকপ্টার থেকে লালকেল্লায় উপস্থিত অতিথিদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। একটি হেলিকপ্টারে উড়বে তেরঙা এবং অন্যটিতে থাকবে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা বিশেষ পতাকা।
বিশেষ অতিথি ও যুবশক্তির অংশগ্রহণ
প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর NCC ক্যাডেট এবং ‘মাই ভারত’ (MY Bharat) ভলান্টিয়াররা একত্রিত হয়ে গান গাইবেন। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ২,৫০০ জন তরুণ ক্যাডেট ও ভলান্টিয়ার জ্ঞানপথে বিশেষ আসনে থাকবেন। এ ছাড়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ৫,০০০ বিশিষ্ট অতিথিকে এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।