কিবোর্ডে কেন পর পর নেই ABC? ১৫০ বছর আগের এক ‘টেকনিক্যাল ট্রিক’-এর মজার ইতিহাস!

কিবোর্ডে কেন পর পর নেই ABC? ১৫০ বছর আগের এক ‘টেকনিক্যাল ট্রিক’-এর মজার ইতিহাস!

বর্ণমালা অনুযায়ী কিবোর্ডে $A, B, C, D$ পরপর সাজানো থাকলে হয়তো আমাদের টাইপিং অনেক সহজ মনে হতো। কিন্তু ১৮৭০-এর দশকে যখন প্রথম টাইপরাইটার তৈরি হয়, তখন প্রকৌশলীরা ইচ্ছাকৃতভাবেই অক্ষরগুলোকে সোজা লাইনে সাজাননি। এর পেছনে কোনো ব্যবহারকারীর সুবিধার বিষয় ছিল না, বরং ছিল একটি বড় যান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা।

হাতুড়ির ‘জ্যাম’ এড়ানোর উপায়

পুরোনো দিনের টাইপরাইটারে প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি করে ধাতব হাতুড়ি (Typebar) থাকত। বোতাম টিপলে সেই হাতুড়িটি গিয়ে কাগজের ওপর কালি দিয়ে অক্ষর ছাপাত। সমস্যা হতো সেখানেই—যদি অক্ষরগুলো পর পর সাজানো থাকত, তবে ইংরেজি ভাষার বহুল ব্যবহৃত শব্দ (যেমন: THE, AND) দ্রুত টাইপ করার সময় একাধিক হাতুড়ি একই সাথে ওপরে উঠে এসে একে অপরের সাথে পেঁচিয়ে যেত। ফলে পুরো মেশিনটি জ্যাম হয়ে আটকে যেত।

এই সমস্যার সমাধান বের করেন ক্রিস্টোফার শোলস (Christopher Sholes)। তিনি একটি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন লেআউট নকশা করেন, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অক্ষরগুলোকে দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে টাইপ করার সময় আলাদা আলাদা জায়গার হাতুড়ি উঠত এবং যান্ত্রিক জ্যাম হওয়ার ঝুঁকি একধাক্কায় কমে যেত।

যেভাবে এলো ‘QWERTY’ লেআউট

কিবোর্ডের ওপরের বাঁ দিকের প্রথম ছয়টি অক্ষর—Q-W-E-R-T-Y থেকেই এই লেআউটের নামকরণ। ১৮৭৩ সালে বিখ্যাত ‘রেমিংটন’ (Remington) কো ম্পা নি প্রথম এই লেআউটের টাইপরাইটার বাণিজ্যিকভাবে বাজারে নিয়ে আসে। এটি বাজারে এতটাই সাড়া ফেলে যে পরবর্তীকালে অন্য সব প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানও একই নকশা অনুসরণ করতে শুরু করে।

কালের পরিক্রমায় টাইপরাইটার বিদায় নিয়েছে, জায়গা করে নিয়েছে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন। কিন্তু বৈপ্লবিক পরিবর্তন এলেও শতবর্ষী এই টাইপিংয়ের অভ্যাস আর বদলায়নি। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের অভ্যস্ততার কারণেই আজও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই লেআউট ধরে রেখেছে।

বর্ণানুক্রমিক বা বিকল্প কিবোর্ড কি নেই?

অবশ্যই আছে! $A, B, C, D$ দিয়ে সাজানো লেআউটকে বলা হয় “Alphabetical Layout”, যা সাধারণত বাচ্চাদের খেলনা বা কিছু সাধারণ ক্যালকুলেটরে দেখা যায়। এছাড়া দ্রুত টাইপ করার জন্য বিজ্ঞানীরা “DVORAK” নামক আরেকটি লেআউট তৈরি করেছিলেন, যেখানে বহুল ব্যবহৃত অক্ষরগুলোকে মাঝের লাইনে রাখা হয়। কিন্তু QWERTY ততদিনে বিশ্বব্যাপী এতটাই জনপ্রিয় ও স্ট্যান্ডার্ড হয়ে যায় যে অন্য কোনো লেআউট মানুষের মন জয় করতে পারেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *