স্বাধীনতা দিবসের মুখে রাজ্যে বড় চমক! চালু হলো ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, সাথে স্বামী বিবেকানন্দ বিশেষ তহবিল

স্বাধীনতা দিবসের মুখে রাজ্যে বড় চমক! চালু হলো ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, সাথে স্বামী বিবেকানন্দ বিশেষ তহবিল

কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন, আলিপুর ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘কন্যা রত্ন দিবস’-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যবাসীর জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নারী শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতাকে আরও জোরদার করতে এই অনুষ্ঠান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে যাত্রা শুরু করল কেন্দ্রের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এতদিন এই গুরুত্বপূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত ছিল রাজ্য। বর্তমান সরকারের হাত ধরে অবশেষে সেই বাধা দূর হলো। এর পাশাপাশি এদিন চালু করা হয়েছে ‘পালনা’ প্রকল্প এবং মহিলাদের জরুরি সহায়তার জন্য ‘১৮১’ হেল্পলাইন নম্বর। দপ্তর দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মালতী রাভা রায় এবং পূর্ণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বিশেষ প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ছাত্রীদের জন্য আর্থিক ভাতার ঘোষণা: মেয়েদের পড়াশোনার পথ সুগম করতে সবচেয়ে বড় ঘোষণাটি এসেছে ভাতার ক্ষেত্রে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্রীদের অনুদানের পরিমাণ মাসিক/বার্ষিক ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২,০০০ টাকা করা হবে। এছাড়া, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। চলতি বছরেই ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর আবেদন প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে স্কুল ভেরিফিকেশন শেষ হওয়া ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ৪২০ কোটি টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।

উচ্চশিক্ষা ও মেধাবীদের জন্য বড় তহবিল: মেধাবী কন্যাদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ৫০,০০০ টাকার অনুদানের পাশাপাশি ‘স্বামী বিবেকানন্দ’-এর নামে ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গড়ার ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো উচ্চতর ক্ষেত্রে যারা পড়াশোনা করতে যাবে, তারা এই তহবিল থেকে সরাসরি বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্য পাবে। পাশাপাশি ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মাতঙ্গিনী হাজরার আদর্শকে স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সমাজের সবরকম বৈষম্য দূর করে কন্যাদের সুরক্ষা ও শিক্ষা সুনিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা স্পষ্ট করে দিল— অর্থাভাবের কারণে বাংলার কোনো মেয়ের স্বপ্ন আর থমকে থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *