“এটা আত্মহত্যা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক খুন!”—আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে বিস্ফোরক দাবি ঋতব্রতর

“এটা আত্মহত্যা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক খুন!”—আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে বিস্ফোরক দাবি ঋতব্রতর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে রাজনৈতিক আলোড়ন ফেলে দিল বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা। পার্টি অফিস থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। এই পরিস্থিতিতে এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কোনও সাধারণ আত্মহত্যা নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক খুন।”

মৃত্যুর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ১২ মিনিট কথা হয়েছিল বলে জানান ঋতব্রত। সাংবাদিকদের সামনে ফোনের কল রেকর্ড বের করে তিনি তুলে ধরেন, ওই দিন সকাল ১০টা ১২ মিনিটে প্রথম কথা হওয়ার পর বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিটে শেষবার কথা হয়। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত তাঁর ৩ জন সহায়কের চাকরি স্থায়ী করার বিষযেই বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন।

২৩৩ শব্দের সুইসাইড নোটের প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চিঠির শেষে “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়” লেখা থাকলেও, প্রতি ছত্রে তৃণমূলের অন্দরের দুর্নীতির করুণ ছবি ফুটে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় অন্যায় দেখেও আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁদের মতো অনেকেই পরিস্থিতি ও চাপের মুখে প্রতিবাদ জানাতে পারেননি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলের ভেতরের চাপই যে আশিসবাবুকে এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে, সে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঋতব্রত। তিনি আরও জানান, এই মাফিয়া সিন্ডিকেটের হাত থেকে সত্য উন্মোচনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন এবং রাজ্য সিআইডি (CID)-র মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *