বর্ষার চেনা ডাকে ভাটা, সস্তার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ছাতা সারাইয়ের দিনকাল?

একসময় “ছাতা সারান, ছাতা সারান” ডাক শুনে গ্রামে গ্রামে গৃহস্থরা ছাতা ঠিক করাতে ছুটে আসতেন। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ব্লকের গোকুলপুর এলাকার কারিগরদের কাজের বেশ সুনাম ছিল। প্রতিদিন সাইকেলে ৪০-৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং, পিংলা বা খড়গপুরের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাঁরা নষ্ট ছাতা মেরামত করতেন। বর্ষার মরশুমে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতো, যা দিয়ে তাঁদের সংসার স্বচ্ছন্দে চলত। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বাজার পরিবর্তনের ফলে আজ সেই চেনা পেশা বিলুপ্তির মুখে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে বাজারে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে নতুন ছাতা পাওয়া যাওয়ায় পুরনো ছাতা ৫০ টাকা খরচ করে মেরামত করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। দীর্ঘ পথ ঘুরেও আগের মতো কাজ না মেলায় প্রতিদিন ১৫০-২০০ টাকা আয় করতেই নাভিশ্বাস উঠছে কারিগরদের। সরঞ্জামের খরচ ও শারীরিক পরিশ্রমের তুলনায় উপার্জন কম হওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ছেড়ে টিকে থাকাই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সস্তার বাজারে ক্রেতাদের সুবিধা হলেও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ে ধীরে ধীরে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ছাতা সারাইয়ের শতবর্ষী ঐতিহ্য।