হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে তৃণমূলকর্মীর মৃত্যু: তদন্তে এবার সিআইডি, সরকারের কড়া পদক্ষেপ

হালিশহরে তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওটের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় এবার সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। লকআপে ঠিক কী ঘটেছিল এবং পুলিশের তরফে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবেন সিআইডির আধিকারিকেরা।
তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে গত ৬ অগস্ট পুলিশ বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করে। এর দু’দিন পর, ৮ অগস্ট ভোরে হালিশহর থানার লকআপে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত কল্যাণীর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ইতিম্যধেই হালিশহর থানার তদন্তকারী আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং থানার আইসি-কে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ম মেনে জেলাশাসক শিল্পী গৌরীসারিয়ার নেতৃত্বে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ১০ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তাঁর বাড়িতে যান এবং পূর্ণাঙ্গ বিচারের আশ্বাস দেন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বিরজুর স্ত্রীকে এক বছরের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরবর্তীতে গ্রুপ-ডি পদে চাকরির আশ্বাস দেন। এছাড়া দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। তবে এর আগে, ৯ অগস্ট তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতের পরিবারে দেখা করতে গেলে স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
এবার পুরো ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হলো। এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস জানান, সরকার ঘটনাটি কোনোভাবেই আড়াল করতে চাইছে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।