বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড: রাজপথে আছড়ে পড়ল চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ, অনশনের চরম হুঁশিয়ারি!

পটনা ও রাঁচি: যন্তর মন্তর এবং ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনের পর এবার ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিহার। চতুর্থ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা (TRE-4) দ্রুত আয়োজনের দাবিতে পটনার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার গবেষক ও চাকরিপ্রার্থী। মঙ্গলবার পটনার গর্দানিবাগে আন্দোলনকারীরা রাজ্য সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা হলে শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগ ছাড়াও সরকারি চাকরিতে একগুচ্ছ অসঙ্গতি দূর করার দাবিতে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। BPSC TRE-4-এ এক ধাপে পরীক্ষা সম্পন্ন করা, দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, BSSC নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা এবং প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের মতো একাধিক দাবি উঠেছে এদিনের বিক্ষোভ থেকে।
ছাত্রনেতা দিলীপ কুমার জানান, সরকার যদি আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁদের দাবি না মানেন, তবে আন্দোলনকারীরা গণ-অনশনে বসবেন। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই দাবিপূরণের লক্ষ্যে কুমুদ পটেল নামে এক আন্দোলনকারী টানা ১৫ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর এক ছাত্রনেতা কুন্দন সিং জানান, সরকারের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সঞ্জয় সিং টাইগার এবং অতিরিক্ত মুখ্যসচিব দীপক কুমারের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের বৈঠক হলেও কোনো ফল মেলেনি। তাই পরিস্থিতি হাতছাড়া হওয়ার আগেই সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডেও নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে চলা আন্দোলন ২৫ দিনে পা দিয়েছে। তবে মঙ্গলবার সেখানে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ঘোষণা করেছেন, ২০১৪ সাল থেকে আউটসোর্সিং সংস্থা ‘টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে নেওয়া সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আন্দোলনরত ছয়জনের মধ্যে JLKM নেতা দেবেন্দ্র মাহতো সহ ৩ জন তাঁদের অনশন তুলে নিয়েছেন।
বিহারে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের দাবি এবং ঝাড়খণ্ডের পরীক্ষা বাতিলের রেশ—সব মিলিয়ে দুই রাজ্যেই এখন নিয়োগ নিয়ে সরকারের ওপর প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছে।