মন্দিরে ঢুকলেই ঘণ্টা বাজান? এই ৩টি ভুলের কারণেই হতে পারে অমঙ্গল!

মন্দিরে ঢুকলেই ঘণ্টা বাজান? এই ৩টি ভুলের কারণেই হতে পারে অমঙ্গল!

মন্দিরে প্রবেশ করেই প্রথম কাজ হিসেবে অনেকেই ঘণ্টার রশিটি টেনে দিয়ে পুণ্য অর্জনের চেষ্টা করেন। কিন্তু শাস্ত্র অনুযায়ী, আসাময়ে ঘণ্টা বাজালে পুণ্যের বদলে উল্টে পাপ বা অনিষ্ট হতে পারে। সনাতন শাস্ত্রে দেবতা পূজার যেমন নিয়ম রয়েছে, তেমনই ঘণ্টা বাজানোরও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত আছে।

যে ৩টি সময়ে ভুলেও ঘণ্টা বাজাবেন না:

ব্রহ্ম মুহূর্ত (ভোর ৪টা থেকে ৬টা): এই অত্যন্ত পবিত্র সময়ে দেব-দেবীরা গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকেন। ভক্তরা এই সময় বিকট শব্দে ঘণ্টা বাজালে তাঁদের ধ্যানভঙ্গ হয়। ভোরবেলা শুধুমাত্র মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মঙ্গল আরতির জন্য ঘণ্টা বাজাতে পারেন; সাধারণ দর্শনার্থীদের চুপচাপ প্রণাম করার বিধান রয়েছে।

ভোগ ও বিশ্রামের সময় (দুপুর ১২টা থেকে ১টা): দুপুরে দেবতাকে “রাজভোগ” নিবেদন করে বিশ্রামে পাঠানো হয়। এই সময় ঘণ্টা বাজালে দেবতার আহার ও বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটে। তাই এ সময় নিঃশব্দে প্রার্থনা করাই শ্রেয়।

শয়ন আরতির পর (রাত ৯টার পর): রাতে শয়ন আরতির পর দেবতাকে ঘুম পাড়ানোর নিয়ম। রাত ৯টার পর ঘণ্টা বাজালে দেবতাকে আসাময়ে ঘুম থেকে জাগানো হয়, যা শাস্ত্রে অত্যন্ত অশুভ মনে করা হয়।

ঘণ্টা বাজানোর সঠিক সময়:

দিনে প্রধানত দুইবার ঘণ্টা বাজানো সবচেয়ে শুভ:
১. সকালের আরতি: সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে।
২. সন্ধ্যা আরতি: সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে।

এই সময় ঘণ্টা বাজালে পরিমণ্ডলের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং দেবকৃপা লাভ করা সহজ হয়।

ঘণ্টা বাজানোর ৩টি সঠিক পদ্ধতি:

অনুমতি গ্রহণ: হাত জোড় করে মনে মনে দেবতার অনুমতি নিয়ে তবেই ঘণ্টায় হাত দেবেন।

তিনবারের নিয়ম: একটানা জোরে শব্দ না করে, ভক্তিভরে ধীরে ধীরে তিনবার ঘণ্টা বাজান।

ডান হাতের ব্যবহার: যেকোনো শুভ কাজের মতো ঘণ্টা বাজানোর সময়ও সর্বদা ডান হাত ব্যবহার করুন।

ঈশ্বর কেবল ভক্তি চান না, নিয়মানুবর্তিতাও দেখেন। তাই পরবর্তীকালে মন্দিরে গেলে সঠিক নিয়ম ও সময় মেনে চলুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *