রামমন্দিরের ‘চাঁদা চুরি’ ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরব কংগ্রেস, ৮০০ শহরে নামছে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অভিযানে

রামমন্দিরের ‘চাঁদা চুরি’ ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরব কংগ্রেস, ৮০০ শহরে নামছে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অভিযানে

দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস, বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অযোধ্যার রামমন্দিরের ‘চাঁদা চুরি’র মতো স্পর্শকাতর অভিযোগকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র চাপে ফেলার কৌশল নিল কংগ্রেস। দিল্লিতে দীর্ঘ চার ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়।

ছাত্র ও যুব সমাজের সমর্থন জোরালো করতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে চালু থাকা ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অভিযানকে আরও ব্যাপ্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী দিনে দেশের প্রায় ৮০০টি ছোট-বড় শহরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে, যার অধিকাংশতেই স্বয়ং রাহুল গান্ধী উপস্থিতি থাকবেন।

একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন নির্বাচনকে মাথায় রেখে রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগকে তৃণমূল, গ্রাম ও পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য সমস্ত প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিকে (PCC) স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপি নেতাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “বিজেপি এই ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করলে জনগণের সন্দেহ আরও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিত এ বিষয়ে জনগণের কাছে জবাব দেওয়া এবং ক্ষমা চাওয়া।” দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, যেহেতু রামমন্দির একটি আবেগঘন বিষয়, তাই এই অনিয়মকে জনগণের দরবারে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকে নেওয়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আলোচনার সারসংক্ষেপ:

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন: কংগ্রেসশাসিত চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী এক মাসের মধ্যে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা: অরুণাচল প্রদেশে চিনের আগ্রাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আসন পুনর্নির্ধারণ ও নারী সংরক্ষণ: কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করে জয়রাম রমেশ জানান, লোকসভার আসন সংখ্যা আগামী ২৫ বছরের জন্য ৫৪৩টিতে স্থির রাখা উচিত এবং বর্তমান আসনের ভিত্তিতেই অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা প্রয়োজন।

হলদোয়ানির ঘটনা ও ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক: উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেস সভাপতির সভার পর জায়গা ‘শুদ্ধিকরণ’ করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিডব্লিউসি-তে একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস হয়। বিজেপি ও আরএসএসের দলিত বিরোধী ও উচ্চবর্ণকেন্দ্রিক মানসিকতাকেই এর জন্য দায়ী করেছে দল।

সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি: বুথ স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত দলীয় সংগঠনকে সুদৃঢ় করতে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ‘সংগঠন সৃজন অভিযান’ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *