বালি সিন্ডিকেটে ‘সাংসদের’ নাম? সিআইডি ভবনে অভিযোগ জানিয়ে রহস্যময় হেঁয়ালি ঋতব্রতের

বালি সিন্ডিকেটে ‘সাংসদের’ নাম? সিআইডি ভবনে অভিযোগ জানিয়ে রহস্যময় হেঁয়ালি ঋতব্রতের

একটি চাঞ্চল্যকর হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিন রেকর্ডিং সামনে এনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বালি সিন্ডিকেট সংক্রান্ত এই অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা খতিয়ে দেখতে এবং এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সিআইডি (CID)-র কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক। (যদিও প্রচারিত ওই রেকর্ডিংয়ের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।)

বুধবার ভবানী ভবনে অভিযোগ জানানোর পর বিধানসভায় ফিরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর হাতে পাওয়া ওই রেকর্ডিংয়ে দু’জন ব্যক্তির মধ্যে বালি সিন্ডিকেট পরিচালনা সংক্রান্ত নানা কথাবার্তা ধরা পড়েছে। কথোপকথনের সূত্র ধরে মনে করা হচ্ছে, পুরো বিষয়টি দুর্গাপুর এলাকাকে কেন্দ্র করে চালিত।

তবে এই অডিও-তে কাদের কণ্ঠস্বর রয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কারও নাম বলেননি বিরোধী দলনেতা। কিছুটা ইঙ্গিতপূর্ণ ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “কণ্ঠস্বরটি ঠিক কার, তা আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে আমার ধারণা, এর মধ্যে এক জন লোকসভার সাংসদের গলা রয়েছে।” এই সংশয় দূর করতে এবং আসল রহস্য উদঘাটনের জন্যই তিনি সিআইডি-র দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিষয়টি কেবল রাজ্য সংস্থাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ইডি (ED), সিবিআই (CBI) এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও তিনি এই অভিযোগের কপি পাঠাবেন।

সাংবাদিক বৈঠকে আরও এক রহস্যময় ‘ক্রিকেট হেঁয়ালি’ তৈরি করেন ঋতব্রত। তিনি জানান, সংগৃহীত ওই স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ে এক ব্যক্তির প্রোফাইল পিকচারের (DP) পাশে ‘৮৩’ সংখ্যাটি লেখা রয়েছে। এরপরই তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, এক জন সাংসদ নিজেকে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য বলে দাবি করেন। ওই ব্যক্তির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের টেস্ট ও একদিনের ম্যাচের রান, গড় ও উইকেটের হিসাবও পড়ে শোনান তিনি।

ক্রিকেটীয় তথ্যের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের উল্লেখ করে ঋতব্রত বলেন, “কোনো অডিওর ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর ক্ষমতা আমার নেই, আমার দৌড় তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট পর্যন্তই।” ফলে ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে সরাসরি ওই সাংসদ বা ক্রিকেট পরিসংখ্যানের কী সম্পর্ক, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখে পুরো বিষয়টি তিনি তদন্তকারী এজেন্সির কোর্টেই ঠেলে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে দুজন প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার জয়ী হয়েছেন— বর্ধমান-দুর্গাপুর আসন থেকে কীর্তি আজাদ এবং বহরমপুর থেকে ইউসুফ পাঠান। ইউসুফ পাঠান ২০০৭ টি-২০ ও ২০১১ সালের একদিনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হলেও, কীর্তি আজাদ ছিলেন ঐতিহাসিক ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় স্কোয়াডের অংশ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কারও নাম না নিলেও ‘৮৩’, ‘দুর্গাপুর’ এবং ‘৮৩-র বিশ্বকাপ’-এর মতো ইঙ্গিতবাহী শব্দ ব্যবহারে রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *