ইটের বদলে পাটকেল: ইসলামাবাদে ব্যারিকেড সরতেই দিল্লিতে পাক হাইকমিশনে চলল বুলডোজার!

দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে বুলডোজার অভিযান: জবরদখলমুক্ত করা হলো ভিসা সংলগ্ন এলাকা
নয়াদিল্লি: চাণক্যপুরীতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে বেআইনি ও অননুমোদিত কাঠামো উচ্ছেদে বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় পার্ক করা বুলডোজারের সাহায্যে হাইকমিশনের সীমানার বাইরে তৈরি করা বেশ কিছু অস্থায়ী ঘর, ধাতব ব্যারিকেড এবং শেড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসন ও সরকারি সূত্রের মতে, পাকিস্তান হাইকমিশন নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে এই নির্মাণগুলি করেছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেআইনি অংশ সরিয়ে দিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার পেছনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়াও স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, মাত্র তিন দিন আগেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থেকে নিরাপত্তা ব্যারিকেড এবং পার্কিং পোল জোর করে সরিয়ে দিয়েছিল পাক কর্তৃপক্ষ। তার পাল্টা জবাব হিসেবেই দিল্লির এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
অভিযানের সময় পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিসা কাউন্টারের বাইরে সাধারণ আবেদনকারীদের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য তৈরি করা কিউ-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ধাতব শেড এবং সুরক্ষা বেড়া ভাঙা হয়। ভাঙচুরের পর ঘটনাস্থলে ইটের টুকরো, কংক্রিট, করুগেটেড শিট এবং ধাতব রেলিংয়ের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিসা কাউন্টারের আশপাশের প্লাস্টার খসে পড়েছে এবং ফাসাদেরও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে হাইকমিশনের প্রধান প্রবেশদ্বার, মূল ভবন এবং সীমানা প্রাচীর অক্ষত রয়েছে।
অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে ইসলামবাদে মার্কিন প্রতিনিধিকে তলব করেছে পাকিস্তান। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের সাথে দিল্লিতে এই বুলডোজার অভিযানের সংযোগ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও, সরকারি সূত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে— এই ভাঙার কাজ সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং বেআইনি নির্মাণ সরানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের সরাসরি কোনো যোগ নেই।