“পশুখাদ্যের পাশে ক্লাস নয়, রাজনীতিও নয়!” বাগরুতে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে তাড়া খেলেন সিজেপি প্রতিনিধিরা

“পশুখাদ্যের পাশে ক্লাস নয়, রাজনীতিও নয়!” বাগরুতে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে তাড়া খেলেন সিজেপি প্রতিনিধিরা

জয়পুর: রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার জরাজীর্ণ সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে চরম জনরোষের মুখে পড়ল ‘করকরচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র এক প্রতিনিধি দল। শুক্রবার জয়পুরের বাগরু বিধানসভা এলাকার রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও তাঁর সহযোগীরা। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছাতেই তাঁদের ঘিরে ধরে ধাওয়া করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। মারধরের পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হয় তাঁদের গাড়িতে, শেষমেশ দলটিকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গ্রামবাসীদের তীব্র ক্ষোভ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্কুলের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার সাড়ে ১২ লাখ টাকা অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও নিজেদের উদ্যোগে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁদের স্পষ্ট কথা—স্কুল প্রাঙ্গণে কোনো বাইরের রাজনৈতিক দলের অযাচিত হস্তক্ষেপ বা রাজনীতি তাঁরা বরদাস্ত করবেন না।

এদিকে, এই রামপুরা কানওয়ারপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্রটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। মূল ভবনটির ছাদ ও দেয়াল ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় নিরাপত্তার খাতিরে তা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বাধ্য হয়ে শিশুদের ক্লাস চলছে ৫০ মিটার দূরের একটি গোয়ালঘরে। সেখানে গবাদিপশুর পশুখাদ্যের পাশেই টিনের চালার নিচে বসে পড়াশোনা করছে খুদে শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনার পর রাজ্য সরকারের শিক্ষাব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর অভিযোগ, সত্য ধামাচাপা দিতেই সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমকে স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে সমস্ত বাধা এড়িয়ে সরকারি স্কুলের আসল চিত্র তুলে ধরতে তাঁদের এই অভিযান জারি থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *