উৎসবের মুখে চিনির বাজারে অগ্নিমূল্য নিয়ে ইথানল নীতিকে দায়ী! জল্পনা উড়িয়ে দিল কেন্দ্র

উৎসবের মরসুম শুরুর ঠিক মুখেই দেশের খুচরো বাজারে চিনির দাম হু হু করে বাড়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়ার পেছনে ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করা হলেও কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চিনি থেকে ইথানল উৎপাদনের হার আগের চেয়ে কমে বর্তমানে প্রায় ৯ শতাংশে নেমেছে এবং সিংহভাগ ইথানল ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য থেকে সংগৃহীত হচ্ছে। মূলতঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আখের ফলন মার খাওয়া, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাস, উৎসবের মরসুমে আকস্মিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং অসৎ ব্যবসায়ীদের বেআইনি মজুতদারির ফলেই বাজারে চিনির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৪৮ টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে।
সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে চিনির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল ভারতের একক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় টন প্রতি চিনির দাম ৪৭৪ ডলার থেকে ১৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে দেশীয় বাজারেও। ইথানল প্রকল্পের সমর্থনে কেন্দ্র উল্লেখ করে যে, এই নীতির ফলে মিলগুলির বিপুল আর্থিক ক্ষতি বন্ধ হয়েছে এবং চাষিদের আখের বকেয়া পাওনার ৯৭ শতাংশই কৃষকদের অ্যাকাউন্টে মেটানো সম্ভব হয়েছে। উপরন্তু, ইথানল বিক্রির মাধ্যমে চিনি কলগুলি স্বাবলম্বী হওয়ায় সরকারের থেকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও পুরোপুরি দূর হয়েছে।