নিজেরাই নিজেদের চাকরি বাঁচালেন মেটা কর্মীরা! ভেস্তে গেল জাকারবার্গের গোপন ছাঁটাই পরিকল্পনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে ৬০% কর্মী প্রতিস্থাপনের অত্যন্ত গোপন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। ‘প্রজেক্ট ওটি’ (অর্গানাইজেশনাল ট্রান্সফরমেশন) নামের এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল দুই ধাপে বিশাল কর্মী ছাঁটাই করে সেই অর্থে নামজাদা এআই প্রকৌশলী নিয়োগ করা এবং মেটাকে একটি ‘এআই নেটিভ’ সংস্থায় রূপ দেওয়া।
তবে এই রূপরেখা বাস্তবায়নের আগেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। মেটা কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কম্পিউটারে ট্র্যাকিং সফটওয়্যার বসিয়ে কিবোর্ড ও মাউসের অ্যাক্টিভিটি নজরদারি শুরু করলে কর্মীরা বুঝতে পারেন, যে এআই-কে তারা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তা শেষ পর্যন্ত তাদেরই চাকরি কাড়বে। ফলে মেটার অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
এর সঙ্গেই যোগ হয় এআই প্রযুক্তির চরম ব্যর্থতা। এআই ব্যবহারের ফলে প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত গোলযোগ গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪০% বেড়ে যায়। এমনকি মেটার নতুন এআই বটের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পুরনো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও হ্যাক করে ফেলে।
অভ্যন্তরীণ আন্দোলন আর প্রযুক্তির এই গোলমালের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন জাকারবার্গ। মে মাসে নির্ধারিত প্রথম দফার কর্মী ছাঁটাইয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জরুরি বৈঠক ডেকে তিনি বিশাল ছাঁটাই পরিকল্পনা স্থগিত করেন এবং মাউস ট্র্যাকিং বন্ধের নির্দেশ দেন। মাত্র ১০% ছাঁটাই করে সে যাত্রায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও, এআই খাতে ১৩০ বিলিয়ন ডলার খরচের হিসেব নিয়ে এখন বিনিয়োগকারীদের কড়া প্রশ্নের মুখে মেটা প্রধান।