২৯টি অলীক দাবি ও ১১টি বিভ্রান্তি: তরুণদের মন জয় করতে গিয়ে চরম বিপাকে রাহুল গান্ধী!

২৯টি অলীক দাবি ও ১১টি বিভ্রান্তি: তরুণদের মন জয় করতে গিয়ে চরম বিপাকে রাহুল গান্ধী!

নয়া দিল্লি:

দেশের যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের দাবি-দাওয়া শুনতে এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে সম্প্রতি ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ নামে এক দেশব্যাপী বিশেষ উদ্যোগ শুরু করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোটা, দেহরাদুন, প্রয়াগরাজ ও পুণের মতো শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রবিন্দু শহরগুলোতে ধারাবাহিক জনসভার আয়োজন করা হয়। তবে তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জনের এই প্রয়াস শুরু হতেই দানা বেঁধেছে চরম বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, এই সভাগুলোতে রাহুল গান্ধী একাধিক অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছেন।

বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে এক ‘জেন-জি’ ফ্যাক্ট-চেকার ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। ওই ওয়েবসাইটে রাহুল গান্ধীর প্রায় ৪০টি বক্তব্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান, প্রাতিষ্ঠানিক ডেটা এবং নির্ভরযোগ্য সরকারি রিপোর্টসহ মোট ১৩৪টি নির্ভরযোগ্য সূত্রের উল্লেখ করে দেখা গেছে— এই ৪০টি দাবির মধ্যে অন্তত ২৯টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বাকি ১১টি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। বিশেষ করে দেশের বেকারত্ব সমস্যা, সরকারি চাকরির পরিসংখ্যান, শিক্ষাব্যবস্থা ও অপরাধের হার সংক্রান্ত বক্তব্যে বাস্তবতার কোনো প্রতিফলন ছিল না।

বিতর্ক কেবল মুখনিঃসৃত বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া রাহুল গান্ধীর সভার তথাকথিত ‘জনজোয়ারের’ ছবি ও ভিডিও নিয়েও বড়সড় জালিয়াতি ধরা পড়েছে। দেখা গেছে, সভার বিশাল ভিড় প্রমাণ করতে গিয়ে মেক্সিকোর একটি পুরোনো অনুষ্ঠানের ছবিকে ভারতের বলে প্রচার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, তরুণ প্রজন্মের এ জাতীয় স্বতঃস্ফূর্ত ও তথ্যনির্ভর পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নেতাদের দায়বদ্ধতা ও সততা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *