জলাতঙ্কের থাবা থেকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন! ১৫ বছরের কিশোরের সুস্থতা কি চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চমক?

জলাতঙ্কের থাবা থেকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন! ১৫ বছরের কিশোরের সুস্থতা কি চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চমক?

উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের এক কিশোরের জলাতঙ্ক থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সাধারণত র‍্যাবিস বা জলাতঙ্কের ক্লিনিক্যাল উপসর্গ শুরু হওয়ার পর তা প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসে গুরুতর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া করণ নামের ওই কিশোর দীর্ঘ ২২ দিনের চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্কুলমুখী হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে একটি পথকুকুর কামড়েছিল এবং সে সময় তাকে দু’টি টিকাও দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ প্রকাশের পর র‍্যাবিস থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। অতীতে ২০০৪ সালে আমেরিকায় জিয়ানা গিস নামের এক কিশোরী ‘মিলওয়াকি প্রোটোকল’ পদ্ধতির সাহায্যে সুস্থ হয়ে উঠলেও, এই পদ্ধতিকে এখনও নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। মির্জাপুরের এই ঘটনায় কিশোরটির সম্পূর্ণ মেডিকেল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হলেও, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই বিরল ঘটনাটি আশার আলো দেখালেও, জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ও নির্ভরযোগ্য অস্ত্র হলো সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনো সন্দেহজনক প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড়ালে অবহেলা না করে অবিলম্বে সাবান-জলে অন্তত ১৫ মিনিট ক্ষতস্থান ধুতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সময়মতো র‍্যাবিসের টিকা ও অ্যান্টিবডি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই জীবন বাঁচানোর একমাত্র নিশ্চিত উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *