বিহার ও উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা, নজিরবিহীন জলস্ফীতিতে ঘুম উড়ল প্রশাসনের!

নেপালের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি নদীর তীব্র প্লাবনে ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। নেপালের দেবঘাটে নারায়ণী নদী অর্থাৎ ভারতে গণ্ডক নামে পরিচিত জলস্রোত বিপদসীমার আড়াই মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইসঙ্গে ত্রিশূলী নদীর জলস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে বাল্মীকি নগরের গণ্ডক ব্যারেজের সমস্ত গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জলপ্রবাহ ৮০ হাজার কিউসেক থেকে দ্রুত বেড়ে আড়াই লক্ষ কিউসেকে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ সহ উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় জারি হয়েছে লাল সতর্কবার্তা। বিহারের শুধু পশ্চিম চম্পারণ এলাকা থেকেই ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশমাফিক একযোগে ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, জলশক্তি মন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা করেছেন। সীমান্তবর্তী এই দুই রাজ্যে মোট নয়টি এনডিআরএফ দল মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল পশ্চিম চম্পারণেই কাজ করছে দুটি উদ্ধারকারী দল। অন্যদিকে, নেপালের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দিল্লির হিন্দন এয়ারবেস থেকে ২০ থেকে ৩০ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দ্বিতীয় সি-সতেরো বিমান রওনা দিয়েছে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের কড়া নজরদারির পাশাপাশি নীচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।