‘যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ!’ নেপাল বিপর্যয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে পুনর্জন্ম ২১ জনের

‘যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ!’ নেপাল বিপর্যয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে পুনর্জন্ম ২১ জনের

কলকাতা / চেন্নাই: যেন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছিল চারপাশ, আর তার পর মুহূর্তেই পাহাড়ি রাস্তা ভাসিয়ে নিয়ে এলো বিধ্বংসী হড়পা বান। নেপালে তীর্থযাত্রায় গিয়ে প্রকৃতির এই ভয়ঙ্কর তাণ্ডবলীলার মুখোমুখি হয়েছিলেন তামিলনাড়ুর ২১ জন পুণ্যার্থী। তবে চরম মুহূর্তে প্রাণ বাঁচাতে বাসের ছাদ থেকে সোজা পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উপরে উঠে যান তাঁরা। আর তাতেই কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে চেন্নাই বিমানবন্দরে ফিরেছেন ওই ২১ জন।

বিপর্যয়ের সেই মুহূর্তের রোমহর্ষক বিবরণ দিতে গিয়ে পুণ্যার্থী দলটির অন্যতম সদস্য বিজয়ভুবনেশ্বরী জানান, “আমরা তিনটে বাসে যাচ্ছিলাম। আমাদের বাসটি ছিল ঠিক মাঝখানে। হঠাৎই বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ আর তার পরেই নেমে আসে ধস ও জলের স্রোত। দুটি বাসের মাঝে আমাদের গাড়িটি আটকে যায়। আমরা কোনোমতে বাসের ছাদে উঠে দাঁড়াই এবং সেখান থেকে প্রাণপণে পাহাড় বেয়ে উঠতে শুরু করি। উপরে একটি পুলিশ চৌকি ছিল, ওখানকার কর্মীরাই আমাদের উদ্ধার করেন। বেঁচে ফিরব ভাবতেই পারিনি।”

আর এক তীর্থযাত্রী কিরুবাথিরির কথায়, “এটা আমাদের পুনর্জন্ম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেলাম।”

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলার গতি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়াতেই নেপালের এই ভয়াবহ বিপর্যয়। দক্ষিণ হিমালয়ের ঢালে জলবায়ু পরিবর্তনের এই নতুন ভূগোল পুরো এলাকার জন্যই বড় বিপদের সংকেত দিচ্ছে।

তামিলনাড়ু সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে, তাদের রাজ্যের প্রায় ৪০০ জন পুণ্যার্থী নেপালে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করতে ও উদ্ধারকাজ তদারকি করতে তামিলনাড়ু সরকার দিল্লিতে চারজন মন্ত্রীর একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *