নেপালে বন্যার বিভীষিকা: পচনধরা ২২৯ মরদেহের গণদাফন, দ্রুত কাঠমান্ডু যাচ্ছে ভারতের বিশেষ ফরেনসিক দল

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যার তাণ্ডব থামলেও এখন শুরু হয়েছে তীব্র মানবিক ও স্বাস্থ্যসংকট। সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে রাসুয়া ও চিতওয়ান জেলা থেকে উদ্ধার করা ২২৯টি বিকৃত ও অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ গণদাফন করা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
দেশটিতে দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬০০ ছুঁয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্ট-এর তথ্যানুযায়ী, চিতওয়ান জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া ২৩৩টি মরদেহের মধ্যে মাত্র ৪টি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২২৯টি মরদেহ এতটাই পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে খালি চোখে তা চেনার কোনো উপায় ছিল না। পচনধরা এসব লাশ থেকে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তড়িঘড়ি করে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে স্বজনহারা পরিবারের কথা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সৎকার বা দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মরদেহে স্টিলের প্লেটে বিশেষ নম্বর ট্যাগ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা গেলে পরিবার শেষকৃত্যের সুযোগ পায়।
এদিকে, ভয়াবহ এই বন্যায় এখনও ২৮৭ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধান পেতে এবং সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনা দ্রুত বিশ্লেষণে সহায়তা দিতে ভারতের পক্ষ থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ৬টি বিশেষ দল খুব শীঘ্রই কাঠমান্ডু পৌঁছাবে।