“সমাজ এগিয়েছে”, শিশুর জন্ম শংসাপত্রে সৎ বাবার পূর্ণ অধিকার স্বীকৃতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট

সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে সৎ বাবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে একটি ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পূর্ব বর্ধমান পুরসভা এলাকার একটি মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী নির্দেশ দিয়েছেন যে, বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর মা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে, শিশুর বার্থ সার্টিফিকেটে নতুন অর্থাৎ সৎ বাবার নাম যোগ করা যাবে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রথম বিয়ের পর আবেদনকারী মহিলার একটি পুত্রসন্তান হয়। ২০২১ সালে বিচ্ছেদের পর ২০২২ সালে তিনি রাজেশ ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। সন্তানকে নতুন স্বামী নিজের পরিচয় দিতে রাজি থাকলেও আইনি জটিলতায় পূর্ব বর্ধমান পুরসভা জন্ম শংসাপত্রে সৎ বাবার নাম যুক্ত করতে চাইছিল না। পুরসভার দাবি ছিল, একবার বাবার নাম নথিভুক্ত হলে তা বদলের নির্দিষ্ট আইন নেই।
মামলা চলাকালীন শিশুর জন্মদাতা বাবাও জানান, এতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। সুপ্রিম কোর্টের ‘আকেলা ললিতা’ মামলা ও ১৯৬৯ সালের জন্ম-মৃত্যু আইনের ১৫ নম্বর ধারা উল্লেখ করে হাইকোর্ট জানায়, সমাজ বদলেছে, তাই নথিপত্রে শুধুমাত্র জৈবিক বাবার নাম ধরে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ব্যক্তিগত বিষয়ে অতিরিক্ত আইনি কড়াকড়ি না দেখিয়ে অবিলম্বে পুরসভাকে সংশোধিত জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজের ইচ্ছানুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।