মৃত্যু যেন চোখের সামনে! এক কাপ চায়ে কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন বর্ধমানের পর্যটক?

পরিকল্পনার সামান্য হেরফের আর এক কাপ চা-পানের ১৫ মিনিটের বিরতিই নেপালের মহাপ্রলয় থেকে বাঁচাল বর্ধমানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কল্যাণকুমার তা-কে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশে নেপালে গিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন তিনি ও তাঁর সঙ্গী বিপ্লব হাজরা। ভিসার দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ২৬ আগস্ট ভোরে চিন সীমান্তের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি দূর করতে রসুইয়ের কাছাকাছি বিদুরের এক দোকানে চা খাওয়ার বিরতি নেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশ তাঁদের গাড়ি আটকে দেয় এবং চোখের পলকে শুরু হয় প্রকৃতির ভয়ংকর তাণ্ডব।
হড়পা বানের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠছেন কল্যাণবাবু। তাঁর চোখের সামনেই প্রচণ্ড শব্দে ধেয়ে আসা সাদা জলরাশি, পাথর ও কাদার স্রোত একটি আস্ত সেতু মানুষসহ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়, যা ভাষায় প্রকাশ করা আসাম্ভব। বর্তমানে অক্ষতশরীরে বর্ধমানের বিধানপল্লির বাড়িতে ফিরে এলেও সেই ভয়াল দৃশ্য তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর প্রকৃতির ওপর মানুষের অত্যাচার নিয়ে গভীর সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই পর্যটক।