নবান্নের বড় সিদ্ধান্ত: সরকারি দফতরে চরম কর্মী সংকট কাটাতে ১ বছরে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ!

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দফতরগুলিতে কর্মী ঘাটতির কারণে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে রাজ্য সরকার। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত নাগরিক পরিষেবাগুলিতে। এই প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবান্ন। আগামী এক বছরের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শূন্যপদগুলি পূরণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন দফতরকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে শূন্যপদের নিখুঁত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা তলব করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, কোন দফতরে ঠিক কত কর্মী প্রয়োজন এবং আগামী এক বছরে কোন পদগুলিতে আগে নিয়োগ করা জরুরি, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিটি দফতরকে তাদের শূন্যপদের সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে একবারে সমস্ত শূন্যপদ না ভরে, আপাতত যেসব ক্ষেত্রে লোকবল অত্যন্ত জরুরি, সেখানেই প্রথম দফায় নিয়োগ করা হবে। দীর্ঘদিন নিয়োগ স্থগিত থাকায় বর্তমান কর্মীদের ওপর যে অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কমানোই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
এই সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে রাজ্যস্তরের ‘ম্যানপাওয়ার ব়্যাশনালাইজেশন কমিটি’। খুব শীঘ্রই এই কমিটির একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যার আগেই সব দপ্তরের রিপোর্ট হাতে পেতে চাইছে রাজ্য। রিপোর্ট পাওয়ার পর কমিটি প্রতিটি দপ্তরের কাজের চাপ ও বর্তমান কর্মী সংখ্যার ভারসাম্য বিশ্লেষণ করবে—যাতে কোনো দপ্তরে অতিরিক্ত কর্মী বা কোনোটিতে চরম ঘাটতি না থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দপ্তরের কাজের পরিধি ও কর্মী সংখ্যার মধ্যে সঠিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। বিভিন্ন দপ্তরের চূড়ান্ত রিপোর্ট ও কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে রাজ্য সরকার। দ্রুত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্তব্ধ হয়ে থাকা সরকারি কাজে গতি ফেরানোই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।