৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগছে? জানুন না-জানা ৬টি বড় কারণ!

৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগছে? জানুন না-জানা ৬টি বড় কারণ!

প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও কি সকালে উঠে ক্লান্তি দূর হয় না? শরীর কি দুর্বল ও ম্যাজম্যাজ লাগে? চিকিৎসকদের মতে, কেবল ঘণ্টার হিসাব মেপে ঘুমালেই শরীর চাঙ্গা হয় না, তার জন্য প্রয়োজন গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম। পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও ক্লান্তি না কাটার পেছনে বেশ কিছু অদৃশ্য কারণ ও খারাপ অভ্যাস দায়ী হতে পারে।

১. নিরবচ্ছিন্ন বা গভীর ঘুমের অভাব: শরীরকে সতেজ রাখতে গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে মস্তিষ্ক ও শরীর প্রয়োজনীয় ‘ডিপ স্লিপ’ বা গভীর ঘুমের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না। ফলে ঘুম ৮ ঘণ্টা হলেও ক্লান্তি থেকেই যায়।

২. স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগ: ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে ঘুমের মধ্যে আচমকা শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে আসে। এতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। প্রচণ্ড নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে দম আটকে আসা এবং সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব থাকা এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

৩. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: কাজের চাপ বা মানসিক দুশ্চিন্তা নিয়ে বিছানায় শুলে ঘুম ভালোভাবে হয় না। অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরকে সবসময় সতর্ক বা ‘অ্যালার্ট’ মোডে রাখে, যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়।

৪. শোয়ার আগে স্ক্রিন টাইম: ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ ব্যবহারের অভ্যাস ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এই ডিভাইসগুলোর স্ক্রিন থেকে নির্গত ‘নীল আলো’ (Blue Light) শরীরে ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।

৫. ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল সেবন: রাতে চা-কফি বা অ্যালকোহল পানের অভ্যাস ঘুমের বড় শত্রু। চায়ের বা কফির ক্যাফেইন সহজে ঘুম আসতে দেয় না। অন্যদিকে, অ্যালকোহল দ্রুত ঘুম এনে দিলেও রাতের শেষভাগে বারবার ঘুম ভাঙিয়ে দেয় এবং গভীর ঘুম হতে দেয় না।

৬. অনিয়মিত জীবনযাপন: প্রতিদিন আলাদা আলাদা সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, শারীরিক ব্যায়াম না করা, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শোবার ঘরের পরিবেশ উপযুক্ত না হওয়াও ঘুমের মান নষ্ট করে দেয়।

তাই নিয়মিত ভালো ঘুম পেতে সঠিক জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *