“মানবিকতা নাকি শিশুশ্রম?” – দম্পতির যুক্তি খারিজ করে কড়া বার্তা কলকাতা হাই কোর্টের

“মানবিকতা নাকি শিশুশ্রম?” – দম্পতির যুক্তি খারিজ করে কড়া বার্তা কলকাতা হাই কোর্টের

গৃহকাজে শিশুশ্রম ঢাকা যাবে না ‘মানবিকতা’র অজুহাতে: মামলা খারিজ করে স্পষ্ট জানাল কলকাতা হাই কোর্ট

১৫ বছরের এক কিশোরীকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে রাখার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা খারিজের আবেদন ফেরত পাঠাল কলকাতা হাই কোর্ট। অভিযুক্ত দম্পতির দাবি ছিল, তারা মানবিকতার খাতিরে মেয়েটিকে আশ্রয় ও আর্থিক সাহায্য দিয়েছিলেন। তবে সেই যুক্তি গ্রহণ না করে বিচারপতি উদয় কুমার জানান, নাবালিকার দেওয়া পরস্পরবিরোধী বয়ানে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে যা সিআরপিসি-র ৪৮২ ধারার প্রাথমিক তদন্তের পর্যায়েই উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি আদালতে বিচারসাপেক্ষ।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। সেদিন রাত ৯টা ২৫ মিনিট নাগাদ ‘চাইল্ডলাইন’-এর একটি দল টেকনো সিটি থানা এলাকার সাপুরজি হাউজিং কমপ্লেক্সের একটি ফ্ল্যাট থেকে ওই ১৫ বছরের কিশোরীকে উদ্ধার করে। অভিযোগে জানানো হয়, তাকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে মাসিক ১,৫০০ টাকা বেতন এবং থাকা-খাওয়ার বিনিময়ে সন্তান সামলানো সহ ঘরের অন্যান্য কাজকর্ম করানো হতো। পরবর্তীতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৫০৬ ও ৩৪ ধারা, জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের ৭৫ ধারা এবং শিশুশ্রম আইনের ১৪ ধারায় চার্জশিট পেশ করে।

আদালতে অভিযুক্তদের আইনজীবী দাবি করেন, মেয়েটির সাথে কোনো কাজের চুক্তি ছিল না। তার পারিবারিক সমস্যার কথা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ মানবিক খাতিরে তাকে আশ্রয়, খাবার ও সাহায্য দেওয়া হয়েছিল; কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। কিন্তু কেস ডায়েরির তথ্য খতিয়ে দেখে আদালত স্পষ্ট জানায়, টাকার বিনিময়ে মেয়েটিকে দিয়ে ঘরের কাজ করানোর যথেষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তাই এ অবস্থায় দম্পতির ‘সাহায্য করার’ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইন অনুযায়ী মামলার বিচার প্রক্রিয়া যথারীতি চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *