ইরান সংকটের মাঝেই পেন্টাগনে বড় ধাক্কা: হেগসেথের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ইস্তফা মার্কিন সেনাসচিবের!

ইরান সংকটের মাঝেই পেন্টাগনে বড় ধাক্কা: হেগসেথের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ইস্তফা মার্কিন সেনাসচিবের!

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনে বড় ধরনের রদবদল ঘটল। মার্কিন সেনাসচিবের পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিলেন ড্যান ড্রিসকল। সোমবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও, ইস্তফার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের তীব্র ক্ষমতার লড়াই ও মতবিরোধ চলছিল। পেন্টাগনে কার কর্তৃত্ব কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়েই মূলত দ্বন্দ্বে জড়ান এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।

প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হেগসেথ মার্কিন সেনাবাহিনীর একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রদবদল করা শুরু করেন। গত এপ্রিলেই তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে পদ থেকে সরিয়ে দেন, যার প্রতিবাদে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ড্রিসকল। এ ছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুও পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ড্রিসকলের নেওয়া সেনাবাহিনীর একাধিক আধুনিকীকরণ প্রকল্প বন্ধ করে দেন হেগসেথ, যা তাঁদের মধ্যকার বিরোধকে চরম রূপ দেয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয়ের সঙ্গেই ড্রিসকলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ভ্যান্সের প্রাক্তন উপদেষ্টা ড্রিসকলকে ট্রাম্প ‘পরিবর্তনের কারিগর’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং ইউক্রেনকে পুনরায় শান্তি আলোচনায় ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল।

২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীতে ‘আর্মার অফিসার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন ড্রিসকল। ২০০৯-১০ মেয়াদে তিনি ইরাকে নিয়োজিত ছিলেন। এক সামরিক পরিবারের সন্তান ড্রিসকলকে ২০২৪ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সেনাসচিব হিসেবে মনোনীত করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *