এক্সপ্রেসওয়ে নাকি পিকনিক স্পট! রাজস্থানে রাস্তার ওপরেই পরিবারের ভুরিভোজ, ভাইরাল ভিডিয়ো নিয়ে তুমুল বিতর্ক

এক্সপ্রেসওয়ে নাকি পিকনিক স্পট! রাজস্থানে রাস্তার ওপরেই পরিবারের ভুরিভোজ, ভাইরাল ভিডিয়ো নিয়ে তুমুল বিতর্ক

কালো পিচে ঢাকা ব্যস্ত এক্সপ্রেসওয়ে। পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে একের পর এক যানবাহন। আর সেই রাস্তার ধারেই খবরের কাগজ বিছিয়ে পরম নিশ্চিন্তে থালা পেতে খাওয়া-দায়ায় ব্যস্ত একটি পরিবার! রাজস্থানের সদ্য উদ্বোধন হওয়া একটি এক্সপ্রেসওয়ের এমন দৃশ্যের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। হাইওয়ে বা এক্সপ্রেসওয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় এভাবে বসে খাওয়ার ঘটনায় পথসুরক্ষা ও নাগরিকদের সচেতনতা (সিভিক সেন্স) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।

ঠিক কী দেখা গেছে ভাইরাল ভিডিয়োটায়? ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, রাজস্থানের নতুন এক্সপ্রেসওয়ের ধারে একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে তার পাশেই খবরের কাগজ পেতে বসেছেন পরিবারের সদস্যরা। সামনে সারিবদ্ধ থালা, আর পরিবারেরই একজন তাঁদের খাবার পরিবেশন করছেন। ব্যস্ত এক্সপ্রেসওয়েকে যেন কোনো মনোরম পিকনিক স্পট বানিয়ে ফেলেছেন তাঁরা।

সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়: ভিডিয়োটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়ে পরিবারটি। নেটিজেনদের একাংশ তাঁদের ‘সিভিক সেন্স’ বা নাগরিক সচেতনতার অভাব নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “এঁদের কি থাকার জায়গা নেই? এর পর তো এরা ট্রেন লাইন কিংবা বিমানবন্দরের রানওয়েতেও পিকনিক করতে বসে যাবে!” অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ যে কোনো সময় বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।

কী সাফাই দিল পরিবার? বিতর্ক বাড়ার পর পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১২ আগস্ট। ‘হরিয়ালভি অমাবস্যা’ উপলক্ষে তাঁরা রাজস্থানের মীনাল জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ প্রচণ্ড খিদে পায়। কিন্তু আশেপাশে কোনো হোটেল বা রেস্তোরাঁ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা রাস্তার পাশে খবরের কাগজ বিছিয়ে তড়িঘড়ি খাবার খেয়ে নেন।

তাঁর দাবি, মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁরা খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। তবে এই অভিজ্ঞতার ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার পরেই তাঁকে চরম ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় (Deactivate) করে দিতে বাধ্য হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *