২০৩০-এর মধ্যেই ৩৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার! ই-কমার্সে ভারত মাতাবে ‘GenZ’ ও ছোট শহর

ভারতের ই-কমার্স সেক্টরে এক বিশাল বিপ্লব ঘটতে চলেছে। ইনফিসাম (Infisum)-এর সাম্প্রতিক ‘স্মার্ট গ্রোথ ইন এ ফাস্ট মার্কেট’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যে ভারতের অনলাইন বাজার ছিল ১২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের, ২০৩০ সালের মধ্যে তা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৩৪৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে।
আর এই রেকর্ডের পেছনে মূল ভূমিকা নেবে দেশের GenZ তরুণ প্রজন্ম এবং ছোট-মাঝারি (টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩) শহরের ক্রেতারা।
🚀 বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি
- নতুন ক্রেতার ঢল: বর্তমানে অনলাইন ক্রেতাদের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ প্রজন্ম (GenZ)। এই দশকের শেষে আরও প্রায় ১৫০ মিলিয়ন নতুন অনলাইন ক্রেতা ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত হবেন।
- ছোট শহরের ভূমিকা: বর্তমানে নতুন ডিরেক্ট-টু-কাস্টমার (D2C) ব্র্যান্ডগুলির ৬৬% অর্ডারই আসছে ছোট ছোট শহর থেকে। এর ফলে স্থানীয় ভাষা ও পছন্দ অনুযায়ী কেনাকাটা এবং আঞ্চলিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
⚡ কুইক-কমার্সের রেষারেষি ও ব্লিঙ্কিটের দাপট
দ্রুত কেনাকাটা বা কুইক-কমার্স বিভাগে আধিপত্য বজায় রেখেছে ব্লিঙ্কিট (Blinkit)।
- ব্লিঙ্কিট: ৪৪% মার্কেট শেয়ার এবং ২০২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন অর্ডার প্রসেস করে তারা শীর্ষে।
- জেপ্টো ও সুইগি: জেপ্টো (Zepto) ২৫% এবং সুইগি ইনস্টামার্ট (Swiggy Instamart) ২০% মার্কেট শেয়ার নিয়ে লড়াইয়ে টিকে আছে।
🛒 চাল চালছে ‘অ্যামাজন নাউ’ (Amazon Now)
এই বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে ‘অ্যামাজন নাউ’। অ্যামাজনের ১০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো পরিকাঠামো ও বিশ্বস্ততাকে কাজে লাগিয়ে তারা একই দিনে ডেলিভারি সুবিধা দিচ্ছে।
- Prime মেম্বারদের জন্য বিশেষ মূল্য, বিনামূল্যে ডেলিভারি এবং কাস্টমার সাপোর্ট তো থাকছেই।
- সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— কোনো কনভেনিয়েন্স ফি, হ্যান্ডলিং ফি বা রেইন/সার্জ ফি ছাড়াই পরিষেবা দিচ্ছে অ্যামাজন নাউ।
🔮 ভবিষ্যৎ এবং নতুন সম্ভাবনা
নীতি আয়োগের ফেলো বদ্রি নারায়ণন গোপালকৃষ্ণন জানান, “কুইক-কমার্স কোনো সাময়িক ট্রেন্ড নয়, এটি একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। ২০৩০ সালের মধ্যে এর বাজার দাঁড়াবে ৬৫–৭০ বিলিয়ন ডলারে এবং মোট ই-রিটেল বৃদ্ধির প্রায় ৫০% এখান থেকেই আসবে।”
তিনি আরও জানান, অ্যামাজন নাউ যদি তাদের বর্তমান ইউজার বেসের মাত্র ২০–২৫ শতাংশকেও এই পরিষেবায় নিয়ে আসতে পারে, তবে তারা অনায়াসেই অন্যান্য প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে বাজারের অন্যতম বড় শক্তিতে পরিণত হবে।