হড়পা বানে ছারখার নেপাল: মৃত ১,১২৭, সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক, বাড়ছে নিখোঁজের হাহাকার!

হড়পা বানে ছারখার নেপাল: মৃত ১,১২৭, সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক, বাড়ছে নিখোঁজের হাহাকার!

২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের এক সপ্তাহ পরেও বিপর্যয়ের ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি নেপাল। জলপ্রলয় ও ধসের ধাক্কায় দিনে দিনে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নেপাল পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১,১২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় ৪,৮৫৮ জন। ঘটনার পর থেকে ১১,৯০০-র বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজদের পরিজনদের মধ্যে প্রশাসনিক ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে ৮ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছিল।

সুড়ঙ্গের অন্ধকারে প্রাণের খোঁজ:

নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপার ট্রিশুলি-১ প্রকল্পেই ৫৫০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গেছে। এছাড়া আপার ত্রিশুলী-৩বি, লাংটাং খোলা, রাসুয়াগাড়ি ও চিলিমে প্রকল্পেও বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন। জল, কাদা ও বিপুল পরিমাণ পাথর সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় ভেতরে ঢোকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

ত্রিশুলী-৩ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের উপরের অংশ চিহ্নিত করে ভেতরে প্রবেশের পথ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। তবে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি অকুস্থলে পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক সাহায্য ও বিশেষ প্রযুক্তি:

সুড়ঙ্গের ভেতরে কোনো জীবিত মানুষ আটকে রয়েছেন কি না তা শনাক্ত করতে থার্মাল ড্রোন ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপাল সেনার পাশাপাশি ভারত, চীন ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা উদ্ধারকাজে হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেন, পানীয় জল ও নিরাপদ রাস্তার চরম অভাব থাকায় সময় গড়ালেই জীবিত উদ্ধারের আশা ফিকে হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে নেপালের জরুরি পরিষেবা দপ্তর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *