ফ্যাটি লিভারের ৬টি লক্ষণ এড়িয়ে গেলেই বিপদ! জেনে নিন কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন নিজেকে

ফ্যাটি লিভারের ৬টি লক্ষণ এড়িয়ে গেলেই বিপদ! জেনে নিন কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন নিজেকে

আজকাল ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে এই রোগের সৃষ্টি হয়। সাধারণ ধারণা হলো কেবল অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই ফ্যাটি লিভার হয়, কিন্তু এই ধারণা একেবারেই ভুল। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ এবং ভারতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, মেটাবলিক সমস্যা এবং খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত চিনির উপস্থিতি এই রোগের মূল কারণ। শরীর যখন অতিরিক্ত চিনি প্রসেস করতে পারে না, তখন লিভার সেই চিনিকে সরাসরি চর্বিতে রূপান্তর করে তা নিজের কোষে জমা করতে থাকে।

লিভার শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ, যা পুষ্টি গ্রহণ ও ক্ষতিকারক উপাদান ছেঁকে বের করে দেয়। অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে লিভারে প্রদাহ বা ‘ইনফ্লামেশন’ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে লিভারের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করে ‘লিভার ফেলিওর’-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফ্যাটি লিভার প্রধানত দুই প্রকার:

১. অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ: অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে তৈরি হয়। ২. নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ: অনিয়মিত জীবনযাত্রা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে হয়।

এছাড়া গর্ভাবস্থায় বিরল ক্ষেত্রে ‘অ্যাকিউট ফ্যাটি লিভার অফ প্রেগন্যান্সি’ দেখা দিতে পারে। রোগটির অগ্রগতি মূলত ৪টি পর্যায়ে ঘটে— স্টিটোসিস, স্টিটোহেপাটাইটিস, ফাইব্রোসিস এবং চূড়ান্ত পর্যায় সিরোসিস।

যে লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন:

  • পেটের ডানদিকের উপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • অনবরত অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা
  • খিদে কমে যাওয়া ও আচমকা ওজন হ্রাস পাওয়া
  • চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিসের লক্ষণ)
  • প্রস্রাব ও মলের রঙ পরিবর্তন এবং ত্বকে চুলকানি

এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *