ফরাক্কা থেকে কি এবার জল ছাড়া হবে? ভারী বৃষ্টির মাঝে বড় আপডেট দিলেন জিএম

পশ্চিমজুড়ে চলছে ভারী বর্ষণ, ফুলেফেঁপে উঠেছে একাধিক নদী এবং বৃদ্ধি পেয়েছে গঙ্গার জলস্তরও। টানা বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অনেকেরই আশঙ্কা, তবে কি এবার ফরাক্কা ব্যারেজ থেকেও জল ছাড়া হবে এবং নতুন করে প্লাবিত হবে বিস্তীর্ণ অঞ্চল? যদিও এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ফরাক্কা ব্যারেজ প্রোজেক্টের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপাণ্ডে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গত কয়েক দিন ধরে গঙ্গার জলের পরিমাণ বরং কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার জানান, গত ৩১ আগস্ট ফরাক্কায় জলের পরিমাণ ছিল ১২ লক্ষ কিউসেক। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তা সামান্য কমে ১১.৯ লক্ষ কিউসেক হয় এবং পরবর্তীতে ওই পরিমাণের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে। ফরাক্কা ব্যারেজের ডিজাইনিং বা নকশা ক্ষমতা প্রায় ২৫ লক্ষ কিউসেক এবং অতীতে এই জলাধার সফলভাবে ১৬.৫ লক্ষ কিউসেক পর্যন্ত জল সামলেছে। বর্তমানের জলস্তর সেই তুলনায় অনেকটাই কম থাকায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং ব্যারেজের সমস্ত গেট অপারেশনাল শিডিউল অনুযায়ী খোলা রয়েছে।
ডিভিসি-র জল ছাড়ায় বাড়ছে উদ্বেগ ফরাক্কার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও অন্য একটি কারণে উদ্বেগ বজায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই মাইথন থেকে ৫৫ হাজার এবং পাঞ্চেত থেকে ৬৫ হাজার—সবমিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি (DVC)। গভীর নিম্নচাপের জেরে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় এবং নদীগুলি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে আগামিদিনে আরও জল ছাড়া হতে পারে। এর ফলে পূর্ব বর্ধমান (জামালপুর, রায়না, খণ্ডঘোষ), হুগলি (আরামবাগ, পুরশুড়া, খানাকুল), হাওড়া (আমতা, উদয়নারায়ণপুর), তাছাড়া ঘাটাল, দুর্গাপুর, পাত্রসায়র ও সোনামুখীর মতো এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।