৪ হাজার টাকার ইলিশ ও ৩০০ টাকা নিয়ে পগারপার মহিলা, মাথায় হাত ব্যবসায়ীর
ভরা বর্ষার মরশুমে বাজারে ইলিশের চাহিদা আকাশছোঁয়া। আর সেই সুযোগেই ঘটল এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ক্রেতা সেজে এসে প্রায় ৪ হাজার টাকার ইলিশ মাছ এবং সঙ্গে নগদ ৩০০ টাকা হাতিয়ে চম্পট দিলেন বছর ষাটের এক মহিলা। মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি সংলগ্ন অমলেন্দু স্মৃতি ব্যবসায়ী সমিতির বাজারে ঘটা এই ঘটনায় হতবাক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী অভিজিৎ বিশ্বাসের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার দুপুরে। ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি বড় ইলিশ পছন্দ করেন ওই মহিলা। ঠিক হয়, প্রতি কেজি ২৫০০ টাকা দরে মাছটির দাম ৩,৭৮৮ টাকা হলেও রাউন্ড ফিগার করে ৩৭০০ টাকাই দেওয়া হবে। কিন্তু টাকা মেটানোর সময় আসতেই তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে এই মুহূর্তে নগদ টাকা নেই, উল্টো দিকের কাপড়ের দোকান থেকে টাকা এনে দেবেন। এরপর মাছ বিক্রেতার এক ভাইকে তাঁর সঙ্গে পাঠান ওই মহিলা।
কীভাবে ঘটেছিল এই প্রতারণা?
- মাছের ওজন ও দাম: প্রায় দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৭০০ থেকে ৩৮০০ টাকা।
- অতিরিক্ত নগদ লোপাট: কাপড়ের দোকানের দিকে যাওয়ার পথে মাছ বিক্রেতার ভাইয়ের থেকে জোর করে আরও ৩০০ টাকা ক্যাশ চেয়ে নেন মহিলা।
- ধাপ্পা দিয়ে চম্পট: মাঝপথে একটি কাপড়ের দোকান দেখিয়ে দোকানদার বা ভাইকে টাকা আনতে পাঠিয়েই চোখের পলকে হাওয়া হয়ে যান ওই মহিলা।
অভিজিৎবাবু জানান, এত বছরের ব্যবসায় এমন অদ্ভুত অভিজ্ঞতা তাঁর কখনও হয়নি। বুধবার সারাদিন তিনি মনের দুঃখে দোকানও খোলেননি, এই ভেবে যে হয়তো মহিলার ভুল হয়েছিল এবং তিনি টাকা দিয়ে যাবেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দোকান খুললেও কেউ আসেননি। সিসিটিভি ফুটেজে মহিলার মুখ পরিষ্কার দেখা গেলেও তাঁর আসল পরিচয় বা ঠিকানা এখনও অজানা। এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ এবং তাঁদের দাবি, এটি নিছক চুরি নয়, রীতিমতো ধূর্ত কায়দায় প্রতারণা। এই ঘটনার পর থেকে বাজার কমিটির ব্যবসায়ীরা আর কাউকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে জিনিস না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।