১৪ বছরে ছুটি মাত্র ১১ দিন! অবসরের ৮ বছর পরও ক্লাসরুমে তমলুকের তৃপ্তি ম্যাডাম

১৪ বছরে ছুটি মাত্র ১১ দিন! অবসরের ৮ বছর পরও ক্লাসরুমে তমলুকের তৃপ্তি ম্যাডাম

তমলুক: ‘শিক্ষকতা শুধুই একটি পেশা নয়, ব্রত’— এই প্রচলিত বাক্যটিকে জীবনের মূলমন্ত্র বানিয়ে নিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের বাসিন্দা তৃপ্তি বক্সী। ৬৮ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে আজও প্রতিদিন সকাল সকাল তৈরি হয়ে স্কুলের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এখন আর সরকারি খাতায় নাম নেই, কোনো বেতন কিংবা হাজিরা খাতায় সই করার বাধ্যবাধকতাও নেই। তবুও স্রেফ খুদে পড়ুয়াদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর শিক্ষকতার টানেই অবসরের আট বছর পরেও নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন তিনি।

তমলুকের খোষ্টিকরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা তৃপ্তি বক্সীর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা ১৯৭৯ সালের ৬ আগস্ট, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের আলুয়াচক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে তিনি খোষ্টিকরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সাল— এই দীর্ঘ ১৪ বছরের কর্মজীবনে তিনি অসুস্থতার কারণে মাত্র ১১ দিন ছুটি নিয়েছিলেন! ২০১৮ সালে নিয়মমাফিক অবসরের সময় গ্রামবাসী ও সহ-শিক্ষকদের বিনীত অনুরোধে সাড়া দিয়ে তিনি ফের স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। সেই থেকে আজও স্কুলের ঘণ্টা বাজার আগেই তমলুকের খোষ্টিকরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটে দেখা মেলে তাঁর।

প্রতিদিন সকালে সংসারের কাজ ও পুজো শেষ করে হেঁটে স্কুলে পৌঁছান তৃপ্তিদেবী। ২০০৪ সালে তিনি যখন এই স্কুলে যোগ দেন, তখন পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ৭০-৭৫ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮-তে। স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক সুমিত কুমার সামন্ত জানান, অবসরের পরেও তৃপ্তিদেবী আগের মতোই নিষ্ঠার সাথে স্কুলে আসেন এবং পড়ান, যা তাঁদের জন্য চরম গর্বের। তাঁর এই অনন্য অবদানের জন্য ২০২৫ সালে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হয়।

তৃপ্তিদেবীর এই শিক্ষকতা-যাপনে অত্যন্ত খুশি তাঁর পরিবারও। ভাই কল্যাণ কুমার বক্সী জানান, তৃপ্তিদেবী শৈশবে এই স্কুলেই পড়াশোনা করেছিলেন, তাই স্কুলের সঙ্গে তাঁর আবেগ বহু পুরনো। আর তাই যতদিন শরীর সায় দেবে, ততদিন এভাবেই খুদে পড়ুয়াদের আলো ছড়িয়ে যাবেন তৃপ্তি ম্যাডাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *