গণেশ চতুর্থী ২০২৬: ১৩ না ১৪ সেপ্টেম্বর? জেনে নিন সিদ্ধিদাতার আবাহনের সঠিক দিন ও পুজো-মুহূর্ত!

গণেশ চতুর্থী ২০২৬: ১৩ না ১৪ সেপ্টেম্বর? জেনে নিন সিদ্ধিদাতার আবাহনের সঠিক দিন ও পুজো-মুহূর্ত!

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় উৎসব গণেশ চতুর্থী। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে ঘরে ঘরে ও মণ্ডপে মণ্ডপে সিদ্ধিদাতা গণপতির আবাহন করা হয়। ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের গণেশ উৎসব ঘিরে ভক্তদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও, পুজোর সঠিক তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে—উৎসবটি কি ১৩ সেপ্টেম্বর নাকি ১৪ সেপ্টেম্বর?

১৪ সেপ্টেম্বর নাকি ১৩ সেপ্টেম্বর—কবে গণেশ চতুর্থী? পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। এই দিনেই ভক্তরা ভক্তিভরে ঘরে ও পুজোমণ্ডপে ভগবান গণেশের প্রতিমা স্থাপন করে আরাধনা করবেন।

চতুর্থী তিথি ও পুজোর শুভ সময়:

  • তিথির সূচনা: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭টা ০৬ মিনিটে।
  • তিথির সমাপ্তি: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে।
  • পুজোর শুভ মুহূর্ত (মধ্যাহ্নকাল): ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ০২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত (স্থানভেদে বা স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী এই সময়ে সামান্য পার্থক্য হতে পারে)।

যেহেতু ১৪ সেপ্টেম্বর সূর্যোদয়ের পর চতুর্থী তিথি বিদ্যমান থাকছে এবং পুজো সম্পাদনের জন্য মধ্যাহ্নকাল অত্যন্ত শুভ, তাই এই দিনটিকেই প্রতিমা প্রতিষ্ঠা ও পুজোর জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।

গণেশ বিসর্জনের সময়সূচি: গণেশ চতুর্থীর মাধ্যমে সূচনা ঘটে ১০ দিনব্যাপী গণেশোৎসবের। ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর (অনন্ত চতুর্দশী) হলো গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের প্রধান দিন। তবে পারিবারিক ও আঞ্চলিক রীতিনীতি অনুযায়ী অনেকেই দেড় দিন, তিন দিন, পাঁচ দিন কিংবা সাত দিন রূপায়নের পর প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে থাকেন।

উৎসবের তাৎপর্য ও উদ্দীপনা: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, গণেশ চতুর্থী হলো বিদ্যা, বুদ্ধি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগের দেবতা ভগবান গণেশের জন্মতিথি। যেকোনো শুভ কাজ শুরুর আগে তাঁর আরাধনা করা সনাতন সংস্কৃতির প্রাচীন রীতি। ভক্তদের বিশ্বাস, বিঘ্নহর্তার কৃপায় জীবনের সব বাধা-বিপত্তি দূর হয়ে সাফল্যের পথ সুগম হয়।

মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশসহ ভারতজুড়ে অত্যন্ত জাঁকজমক ও শ্রদ্ধার সাথে এই উৎসব উদযাপিত হয়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই গণপতি বাপ্পাকে বরণ করে নেওয়ার বিপুল উৎসাহ চোখে পড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *