“যাদবপুরের কলঙ্ক মুছতে হবে” — পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও রাজ্য রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

“যাদবপুরের কলঙ্ক মুছতে হবে” — পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও রাজ্য রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

বুধবার সকালে নিয়মমাফিক প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে কলকাতার খাদ্যনিরাপত্তা, হোটেল ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল, পুজোর মুখে রাস্তার বেহাল দশা এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিসহ একাধিক সমসাময়িক বিষয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি: সম্প্রতি কলকাতার ৪০টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সরব হওয়ার আহ্বান জানান দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অনিয়ম ও নিম্নমানের খাবারের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটছে, অথচ রাজ্যে সঠিক চিকিৎসার ভরসাও নেই।

পাশাপাশি, পুজোর মুখে শহরের ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে পর্যটকদের ভোগান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি হোটেল মালিকদের দ্রুত পরিকাঠামো ঠিক করে নিয়ম মেনে লাইসেন্স নবীকরণের পরামর্শ দেন। অনিয়ন্ত্রিতভাবে হোটেল গড়ে ওঠার সমালোচনা করে মন্দারমণির সমুদ্র সৈকত দখলের উদাহরণ টানেন তিনি। দিলীপবাবুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—প্রকৃতির ক্ষতি করে ব্যবসা চালালে সিকিম বা নেপালের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে বাংলাকেও।

পুজোর আগে রাস্তা মেরামতি: পুজোর মুখে শহরের ভাঙাচোরা রাস্তা সারাই নিয়ে তিনি জানান, পূর্ত দপ্তরকে ইতিমধ্যেই ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং পঞ্চায়েত স্তর থেকেও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যেই রাজ্যের সব রাস্তা চলাচলের উপযুক্ত হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয়তাবাদ: যাদবপুরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, যে কলকাতা দুটি জাতীয় সঙ্গীত রচনার সাক্ষী, সেই শহরের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেশবিরোধী স্লোগান ওঠা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কিছু অপরিণত শিক্ষার্থীকে বিভ্রান্ত করে দেশের অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে যখন জাতীয়তাবাদী ভাবধারা জোরদার হচ্ছে, তখন যাদবপুর থেকেও বিচ্ছিন্নতাবাদী কথার বদলে রাষ্ট্রবাদী স্বর ওঠা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *