অযোধ্যার পর এবার বৃন্দাবন! ১,০৫১ কোটির মাস্টারপ্ল্যানে বদলে যাচ্ছে ‘ব্রজধাম’

অযোধ্যা ও কাশী বিশ্বনাথের পর এবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের মেগা রূপান্তরের তালিকায় যুক্ত হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুণ্যভূমি মথুরা ও বৃন্দাবন। অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের পর যেভাবে পর্যটন, হোটেল ব্যবসা ও জমির দামে জোয়ার এসেছে, ঠিক সেই ‘অযোধ্যা মডেল’-কেই এবার ব্রজভূমিতে প্রয়োগ করতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনই মথুরা-বৃন্দাবনের জন্য ১,০৫১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করেছেন তিনি।
কী থাকছে ‘মথুরা ২.০’ মেগা প্রকল্পে?
মোট ১,০৫১ কোটি টাকার এই বিশাল বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে ২২৯টি ছোট-বড় প্রকল্প। এর মধ্যে ৫৪০ কোটি টাকার ৬২টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে এবং ৪৩৭ কোটি টাকার ১৬৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নসমূহ:
- ৪-লেনের হাইওয়ে: ২৫১ কোটি টাকা খরচে তৈরি হচ্ছে নতুন ৪-লেনের সড়ক, যা যমুনা এক্সপ্রেসওয়েকে সরাসরি যুক্ত করবে বৃন্দাবনের সাথে। এর ফলে পুণ্যার্থীদের আর সরু রাস্তায় যানজটে পড়তে হবে না।
- যমুনায় নতুন সেতু: যানজট কমাতে এবং স্থানীয় যোগাযোগের সুবিধার্থে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে একটি ২-লেনের নতুন সেতু।
- ১২-তলা পর্যটক হোস্টেল: উৎসবের দিনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে ৪৭ কোটি টাকা খরচে নায়ারা পুলিশ লাইনস চত্বরে তৈরি হয়েছে ১২-তলার এক বিশাল হোস্টেল।
- প্রশস্ত রাস্তা ও ফ্লাইওভার: শহরে যানজটমুক্ত যাতায়াতের জন্য ৮৬ কোটি টাকায় ৩০ মিটার চওড়া মাস্টার-প্ল্যান রাস্তা এবং ৪৪ কোটি টাকায় তৈরি হচ্ছে নতুন ফ্লাইওভার। পাশাপাশি ছাতিকারা রাস্তার সৌন্দর্য বর্ধনে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে।
- ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: বৃন্দাবনে নতুন রোপওয়ে, বিশাল পার্কিং, ‘সুরদাস ব্রজভাষা একাডেমি’ এবং ৪০০ একর জমিতে এশিয়ার বৃহত্তম নগর-বন ‘সুরভি বন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক বারাত ও সামাজিক গুরুত্ব
বিজেপির দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান ছিল— “অযোধ্যা তো ট্রেলার, কাশী-মথুরা এখনও বাকি।” যোগী আদিত্যনাথের এই নতুন মন্দির চত্বর ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা যেন সেই স্লোগানকেই বাস্তব রূপ দিচ্ছে। ২০২৭ সালের ইউপি নির্বাচনের আগে এই উদ্যোগ হিন্দুত্ব ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জোড়া বার্তাকেই সামনে আনছে।
রিয়েল এস্টেট ও পর্যটন খাতে জোয়ার
দিল্লি-এনসিআর এলাকা থেকে নতুন হাইওয়ে ও ফ্লাইওভারের কারণে এখন মাত্র ২ ঘণ্টাতেই মথুরা-বৃন্দাবনে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে এই অঞ্চলে পর্যটনের পাশাপাশি ‘সেকেন্ড হোম’ (দ্বিতীয় বাসস্থান), সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেল এবং ওয়্যারহাউসিং ব্যবসার বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প ব্রজ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চিত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আনবে। তবে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বৃন্দাবনের প্রাচীন গলি, ঘাট ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের আসল রূপ যেন অক্ষুণ্ণ থাকে—সেদিকেও সতর্ক নজর রাখার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট মহল।