মেহতা বিল্ডিংয়ে যৌথ হানা: প্রেসক্রিপশন ছাড়া নেশার ওষুধ বিক্রির উৎসের খোঁজে ড্রাগ কন্ট্রোলের বড় অভিযান

মেহতা বিল্ডিংয়ে যৌথ হানা: প্রেসক্রিপশন ছাড়া নেশার ওষুধ বিক্রির উৎসের খোঁজে ড্রাগ কন্ট্রোলের বড় অভিযান

কলকাতা: প্রেসক্রিপশন ছাড়া বেআইনিভাবে নেশার ওষুধ বিক্রির উৎস খুঁজতে বড়বাজারের বিখ্যাত মেহতা বিল্ডিংয়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালালো ড্রাগ কন্ট্রোল ও কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB)। বুধবার যৌথ এই অভিযানে মেহতা বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি তিলজলা ও তপসিয়া এলাকাতেও একযোগে হানা দেন আধিকারিকেরা।

সম্প্রতি ওয়াটগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক আড়াই হাজার বোতল কোডাইন যুক্ত কাশির সিরাপ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ওষুধের উৎস এবং মজুতের রহস্য উদ্ঘাটন করতেই ড্রাগ কন্ট্রোলের অতিরিক্ত ডিরেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক ও ড্রাগ ইনস্পেক্টরদের নেতৃত্বে এই বড়সড় অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে মেহতা বিল্ডিংয়ের ‘এমএস লাইফলাইন ড্রাগ প্রাইভেট লিমিটেড’-এ হানা দেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, এই সংস্থাটি এসএসকেএম, আরজি কর এবং বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে বিশেষ ছাড়ের ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান পরিচালনা করে। সংস্থার ম্যানেজার অশোক ভৌমিক জানান, তাঁরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। এছাড়া কেবি ফার্মা, সিএল দত্ত অ্যান্ড কো ম্পা নি, দেশাই অ্যান্ড কো ম্পা নি এবং পাল ব্রাদার্সের মতো নামী পাইকারি বিক্রেতাদের প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়।

তদন্তকারীরা জানান, ব্যথানাশক ওষুধ ‘ট্যাপেনডল’, কোডাইনযুক্ত কাশির সিরাপ এবং মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ড্রাগ— যেগুলি অনেকেই নেশা হিসেবে ব্যবহার করে, সেগুলির মজুত ও বিক্রির হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মেহতা বিল্ডিংয়ের প্রায় সবকটি দোকানেই মজুত ওষুধ ও বিক্রি সংক্রান্ত নথিতে চরম গরমিল লক্ষ্য করা গেছে। বহু ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায়নি ব্যাচ নম্বরেরও। এমনকি সিএল দত্ত অ্যান্ড কো ম্পা নির কাউন্টারে ফ্রিজের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ নথি লুকিয়ে রাখার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আধিকারিকেরা।

অভিযানে শেলক্যাল ৫০০, মনটায়ার এলসি, সেফপোলআপ ২০০, এলডার্স আই রিফ্রেশ ড্রপ, সেফেক্সিম, র‍্যাপিড পেন, সিলাপাম এলএস ১০ এবং অ্যারিপিপ্রাজ়োলের মতো একাধিক জরুরি ওষুধের স্টক পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের অনিয়মের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কড়া পদক্ষেপের ধারাবাহিকতাতেই ওষুধের বাজারেও এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *