ভুতনীতে ভয়াবহ বন্যা: আকাশপথে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা

মালদার মানিকচকের ভুতনী অঞ্চলে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বুধবার মালদায় পৌঁছান রাজ্য প্রশাসনের তিন শীর্ষ আধিকারিক—বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ সিনহা, সিভিল ডিফেন্সের ডিজি সঞ্জয় সিং এবং উত্তরবঙ্গের আইজি সুকেশ জৈন।
কলকাতা থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারে বেলা ১২টা নাগাদ তাঁরা মালদা বিমানবন্দরে পৌঁছান। অবতরণের পর জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বন্যা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
গঙ্গার জলে ভুতনী অঞ্চলের হিরানন্দপুর, উত্তর চণ্ডীপুর এবং দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জলবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ, প্লাবিত বহু ঘরবাড়ি ও জমি। সড়কপথে পৌঁছানো আসাম্ভব হওয়ায় হেলিকপ্টারে করেই বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর আকাশপথে পরিদর্শন চালান আধিকারিকরা।
পরিদর্শন শেষে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ সিনহা জানান, এলাকাগুলো গভীরভাবে প্লাবিত হওয়ায় জমা জল নামতে সময় লাগবে। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। প্লাবিত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে।
এদিকে, ভুতনীর বন্যা ও নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি। মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, বিগত দিনে কাজের নামে অর্থ তছরুপ হওয়ার ফলেই প্রতি বছর এলাকার মানুষকে এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তবে এবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
বিজেপির এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে জেলা তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও বন্যানিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র সরকার কোনো সহযোগিতা করেনি। বিপদের দিনে দুর্গত মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে বিজেপি কেবল রাজনীতির স্বার্থে উক্তি করছে।