ক্লাসের সাথেই জনগণনা, মিলবে না রিলিজ অর্ডার! শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকায় চিন্তায় শিক্ষকেরা

ক্লাসের সাথেই জনগণনা, মিলবে না রিলিজ অর্ডার! শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকায় চিন্তায় শিক্ষকেরা

রাজ্যে জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি এবং ‘রিলিজ অর্ডার’ প্রদান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। প্রশাসনিক বিভাগের তরফে জারি করা এক নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রথম দফার জনগণনার কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের এই মুহূর্তে অন্য কোথাও বদলি করা যাবে না এবং স্কুল থেকেও কোনো রিলিজ অর্ডার দেওয়া যাবে না।

১৫ সেপ্টেম্বরের পর অতিরিক্ত সময় নিয়ে বিভ্রান্তি সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের জনগণনার কাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। তবে শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকায় শিক্ষকদের বদলির ওপর এই বিধিনিষেধ জারি রাখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রথম দফার কাজ শেষ হওয়ার পরও কেন অতিরিক্ত ১৫ দিন রিলিজ আটকে রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে শিক্ষামহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

জটিলতার মুখে আদালতের নির্দেশে হওয়া বদলিও সাধারণত আপস-বদলি (Mutual Transfer) বা আদালতের কোনো নির্দেশ থাকলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) সুপারিশের ভিত্তিতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বদলির নির্দেশপত্র জারি করে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকে শিক্ষককে রিলিজ দেওয়া হয়। কিন্তু দপ্তরের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পর্ষদের অনুমোদন থাকলেও স্কুলগুলো রিলিজ অর্ডার ইস্যু করতে পারছে না। ফলে বদলির নির্দেশ পেয়েও নতুন স্কুলে যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

পঠনপাঠন সামলেই বাড়তি দায়িত্ব শিক্ষা দপ্তর আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে, শিক্ষকদের ‘অন-ডিউটি’ রেখেই জনগণনার কাজ চালাতে হবে। অর্থাৎ, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশিই তাঁদের সেনসাসের কাজ করতে হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। স্কুলের স্বাভাবিক দায়িত্ব সামলে কীভাবে এই বিশাল কাজ সম্পন্ন হবে এবং বদলি আটকে যাওয়ায় উদ্ভূত জটিলতার সমাধান কীভাবে মিলবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্য শিক্ষক সমাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *