‘গেরুয়ার অপমান বরদাস্ত নয়’, যাদবপুর যাত্রায় চাঁচাছোলা মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং গেরুয়া পতাকার অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আয়োজিত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ কর্মসূচির সমাপনী জনসভায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের একাংশকে নিশানা করে তিনি এই বক্তব্য রাখেন।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বা কিষাণজীর সমর্থনে ওঠা স্লোগানের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবাপন্ন গ্যাংকে কীভাবে সাফ করতে হয় তা তাঁর জানা আছে। জাতীয়তাবাদী ও আধ্যাত্মিক চেতনার মাধ্যমে এর জবাব দিতে ভবিষ্যতে যাদবপুর প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী গীতা পাঠ ও হনুমান চালিসা পাঠের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, “গেরুয়া নিয়ে অপশব্দ লেখার আগে অন্তত পাঁচবার ভাববেন। গেরুয়ার অপমান এই বাংলা বরদাস্ত করবে না।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রাজ্যে ২০২৬-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনকে স্মরণে এনে শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যের প্রস্তাবিত শিক্ষা সংক্রান্ত বিল নিয়ে বিশেষ অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ঋষি অরবিন্দ ও জাতীয়তাবাদের এই পুণ্যভূমি থেকে সমাজবিরোধী এবং দেশবিরোধী সংস্কৃতির বাহকদের শিকড়সমেত উপড়ে ফেলা হবে।
এর আগে রাখি পূর্ণিমার দিন যাদবপুরে আয়োজিত ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বাম আমলের সংস্কৃতি ও বর্তমানের ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার দ্বিতীয় দফার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র মাধ্যমে সেই পরিবেশের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যই ফের পুনর্ব্যক্ত করলেন তিনি।