‘বিবাহ ব্যক্তিস্বাধীনতা কাড়ে না’, বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

নয়াদিল্লি: “বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানেই কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব হয়ে যাওয়া নয়।” বৈবাহিক ধর্ষণ (Marital Rape) সংক্রান্ত একটি আপিল মামলার শুনানিতে বুধবার এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পেশ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চে এ দিন মামলাটির শুনানি হয়। আগামী তিন সপ্তাহ পর এই বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি হতে পারে বলে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে। স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, তাঁকে ‘যৌনদাসী’ হিসেবে নির্যাতন করা হতো। কর্ণাটক হাইকোর্ট বৈবাহিক ধর্ষণের আওতায় স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। বর্তমানে বৈবাহিক ধর্ষণের ব্যতিক্রমী বিধানের আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায়, শীর্ষ আদালত বুধবার এই আপিলটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোনে।
শুনানি চলাকালীন স্ত্রীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং যুক্তি দেন, বর্তমান আইনি কাঠামোর ভেতরেই এই ধরনের অপরাধের বিচার করা সম্ভব। অন্যদিকে, স্বামীর পক্ষের আইনজীবী করুণা নন্দী সংবিধানের মূল কাঠামো ও আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দিকটি তুলে ধরেন।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, বিবাহ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কেড়ে নেয় না, তবে বিষয়টি যেহেতু ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত, তাই শাস্তি দেওয়ার আগে ব্যতিক্রমী ধারাটি যুক্তিযুক্ত নাকি খেয়ালখুশি মতো ব্যবহৃত হচ্ছে, তা ভালোভাবে পরখ করা দরকার। প্রধান বিচারপতিও জানান, প্রচলিত আইনের আওতায় এর সঠিক বিচার সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা একটি বড় আইনি প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মে মাসে দিল্লি হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করায় বিষয়টি শীর্ষ আদালতে গড়ায়। বর্তমানে সমগ্র দেশবাসী এই জটিল আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে।