নন্দীগ্রামে মমতা দাঁড়ালে প্রার্থী নেই! প্রতীক-যুদ্ধের মাঝেই ঋতব্রত শিবিরের মেগা চাল

রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতি। প্রতীক কার কাছে থাকবে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির, নাকি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী? এই লড়াইয়ের মাঝেই এবার নতুন কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে ঋতপন্থী শিবির।
ঋতপন্থী তৃণমূল নেতা মদন মিত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ফের নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে সেখানে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি-বিরোধী ভোটে কোনওরকম বিভাজন তাঁরা চান না। মূলত তৃণমূলনেত্রীকে ফাঁকা ময়দান ছেড়ে দিয়ে রাজ্যবাসীর সামনে স্পষ্ট করতে চাওয়া হচ্ছে—কে বা কারা নেপথ্যে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, অতীতের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মমতাকে ফের নন্দীগ্রাম থেকেই লড়াইয়ে নামার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন আবু তাহের।
রাজনৈতিক এই টানাটানির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তৈরি নির্বাচন কমিশন। প্রতীক কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণ করতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের তলব করা হয়েছে। সেখানে প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং তার ঠিক এক ঘণ্টা পর কালীঘাট শিবিরের প্রতিনিধিদের শুনানি হবে। এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন।
কালীঘাট শিবির অবশ্য এ বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক জটিলতা দেখছে না। তাদের দাবি, উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে, ফলে নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের নির্দেশই বহাল থাকা উচিত। এখন ১২ সেপ্টেম্বর কমিশনের বৈঠক এবং নন্দীগ্রামের ময়দানে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হন কি না, সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।