কৌশিকী অমাবস্যায় পেট ভরে খেয়েই মায়ের পুজো, কেন এমন নিয়ম তারাপীঠে?

ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিটি সনাতন ধর্মে ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ নামে পরিচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস ও তন্ত্রসাধনায় এই অমাবস্যার রাত অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ। পুরাণ অনুযায়ী, অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভের অত্যাচারে স্বর্গচ্যুত দেবতারা দেবী পার্বতীর শরণাপন্ন হলে, তিনি নিজের দেহকোষ থেকে এক ভয়ঙ্করী দেবীমূর্তির সৃষ্টি করেন। দেবী পার্বতীর দেহকোষ থেকে জন্ম হওয়ায় এই দেবী ‘কৌশিকী’ নামে পরিচিত হন, যিনি অশুভ শক্তি বিনাশ করে পৃথিবীতে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করেন।
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে প্রতি বছর বীরভূমের বিখ্যাত ৫১ সতীপীঠের অন্যতম ‘তারাপীঠে’ ঢল নামে লক্ষাধিক ভক্তের। কথিত আছে, এখানে সতীর চোখের তারা পড়েছিল। তবে সাধারণ পুজো-পার্বণে উপোস করার রীতি থাকলেও, তারাপীঠের ক্ষেত্রে নিয়মটা একবারে আলাদা। সাধকদের মতে, তারাপীঠে মা তারার পুজো খালি পেটে বা উপোস করে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়।
কিন্তু কেন এই ব্যতিয়ক্রম?
সাধক ও তন্ত্র বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, তারাপীঠের মন্দিরটি মহাশ্মশান সংলগ্ন। শ্মশান এলাকা হওয়ায় সেখানে নানা ধরনের অদৃশ্য ও ক্ষতিকর শক্তির আনাগোনা থাকে। ভক্তরা যখন দীর্ঘক্ষণ উপোস করে থাকেন, তখন তাঁদের শারীরিক শক্তি ও আত্মিক উর্জা (Energy) অনেকটাই কমে যায়। শরীর দুর্বল থাকলে সেই অশুভ প্রভাব খুব সহজেই শরীরে বিস্তার করতে পারে।
তাই ভক্তরা যাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকেন এবং শুভ শক্তির আবেশ পান, সেই কারণেই তারাপীঠে পেট ভরে খেয়ে নিয়ে মায়ের দর্শন ও পুজো দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।