লালকেল্লা হামলা: আত্মঘাতী বিস্ফোরণই ছিল! ৭,৫০০ পাতার চার্জশিটে এনআইএ-র চাঞ্চল্যকর দাবি

দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণটি কোনো সাধারণ হামলা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা ছিল। বুধবার পেশ করা ৭,৫০০-এরও বেশি পাতার এক বিশাল চার্জশিটে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্তকারী সংস্থার স্পষ্ট দাবি, গত বছরের নভেম্বর মাসে এই নৃশংস হামলাটি চালিয়েছিল জঙ্গি মডিউলের অন্যতম সদস্য উমর উন নবী।
ডিএনএ পরীক্ষায় উমরের উপস্থিতি নিশ্চিত এনআইএ-র তদন্তে জানা গেছে, উমর নবী ও তার সহযোগীরা একটি পুরনো ‘হুন্ডাই আই-২০’ (Hyundai i20) গাড়ি কিনে সেটিকে চালিত বোমাবহনকারী যান বা ‘ভিবিআইইডি’ (VBIED)-তে রূপান্তরিত করে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা ও ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিস্ফোরণের মুহূর্তে উমর গাড়ির ভেতরেই ছিল এবং একটি বিশেষ ‘কম্যান্ড মেকানিজম’ ব্যবহার করে আইইডি (IED)-টি সক্রিয় করেছিল।
ইউএপিএ আইনে মামলা ও বড় জঙ্গি ষড়যন্ত্র ভারতের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে গঠিত এক সুদূরপ্রসারী আন্তঃরাজ্য জঙ্গি চক্রান্তের অংশ হিসেবেই লালকেল্লার মতো সংবেদনশীল স্থানকে নিশানা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ১০ জনেরও বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইউএপিএ (UAPA), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং বিস্ফোরক আইনে কঠোর মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে মূল হামলাকারী উমর নবী নিজেই বিস্ফোরণে নিহত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এনআইএ।
স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই গাড়িটিতে আচমকাই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। তার প্রভাবে চারপাশের একাধিক গাড়িতে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলি ভস্মীভূত হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৫ জন প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হন।