গুজরাটে নির্মীয়মাণ ভবন ধস: যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার সব শ্রমিক, এড়ানো গেল বড় বিপর্যয়!

গুজরাটে নির্মীয়মাণ ভবন ধস: যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার সব শ্রমিক, এড়ানো গেল বড় বিপর্যয়!

গুজরাটের গান্ধীনগরের কুডাসন এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের স্ল্যাব আচমকা ভেঙে পড়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া সমস্ত শ্রমিককেই নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার রাত আনুমানিক ৯:১৫ নাগাদ কুডাসন এলাকায় অবস্থিত ‘বস্কি দ্য এম্পায়ার’ নামের একটি বাণিজ্যিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রকল্পের তিন তলার স্ল্যাব এবং সেন্টারিংয়ের অংশ বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। বিকট আওয়াজ শুনেই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পাওয়া মাত্রই গান্ধীনগর পুরনিগম, ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলের একাধিক টিম উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

ঘটনাস্থলে ক্রেন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুত কংক্রিট ও লোহার ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। প্রাথমিক আশঙ্কার ভিত্তিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে আটকে থাকা প্রায় ১০-১৫ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে দ্রুত গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের কারোর অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয় এবং ইতোমধ্যে ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর পরই গুজরাটের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভী, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সঞ্জীব কুমার এবং পুলিশ প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বিধায়ক রীতা প্যাটেল ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানসেরিয়া হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। সময়মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে এক বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়। নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি বা সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *