‘মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম, ব্রিগেডে গীতা পাঠ’: সংস্কৃতি ফেরাতে শুভেন্দুর বড় বার্তা

আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কবি কুমার বিশ্বাসের ‘রাম কথা’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন প্রজন্মকে যেমন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে, তেমনই তাদের নিজস্ব পরম্পরা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষায় সনাতন পরম্পরা ও দেশপ্রেম অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, তবে তার সাথে গীতাপাঠ, হনুমান চালিশা পাঠ, টিকা লাগানো ও তুলসী গাছে জল দেওয়ার মতো ভারতীয় পরম্পরাগুলোর জাগরণ ঘটানো প্রয়োজন। একই সাথে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে ‘বন্দে মাতরম’ চালুর ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। মাদ্রাসাতেও ‘বন্দে মাতরম’ চালু করার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় পতাকাকে সম্মান ও দেশপ্রেমকে প্রাধান্য দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
আসন্ন একাধিক মেগা কর্মসূচি রাজ্যের সংস্কৃতি ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে একাধিক বড় কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী:
- নভেম্বর: কলকাতায় আয়োজিত হবে বিশাল হনুমান চালিশা পাঠের কর্মসূচি।
- ডিসেম্বর: ব্রিগেড ময়দানে প্রায় ৫ লাখ কণ্ঠে গীতা পাঠের বৃহৎ আয়োজন।
- গঙ্গাসাগর ও দুর্গাপূজা: গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়া এবং আরও বড় পরিসরে দুর্গাপূজা আয়োজনের পরিকল্পনা।
বিগত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, কলকাতার যে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে গৌরব ছিল, তা পূর্ববর্তী সরকারগুলো নষ্ট করেছে। বিজেপি সরকার সাধু-সন্তদের যথাযথ সম্মান দিয়ে সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাধু-সন্তদের সম্মান ও বিতর্ক রাজ্যে সাধু-সন্ত ও ধর্মীয় গুরুদের অপমান কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি ‘বাগেশ্বর বাবা’ ধীরেন্দ্রনাথ শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর ঘটনায় যুক্ত দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের এক নেতাকে দ্রুত গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখা দিয়ে বাগেশ্বর বাবা জানান, তিনি মূলত মায়ের মণ্ডপের কাছে বলিপ্রথার বিরোধিতা করতে চেয়েছেন এবং পশুবলির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান অনড় থাকবে।