BRICS-এ মোদী-পেজেশকিয়ান দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: সংঘাত মেটাতে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা

BRICS-এ মোদী-পেজেশকিয়ান দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: সংঘাত মেটাতে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা

নয়াদিল্লি: ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যিক জলপথের নিরাপত্তা এবং ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক গুরুত্ব পেয়েছে।

আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ বিশ্ব রাজনীতিতে চলা যে কোনো সংঘাতের সমাধানে ভারত সর্বদাই ‘আলোচনা ও কূটনীতি’র পক্ষে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে তা সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা দ্রুত ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

হরমুজ প্রণালী ও নাবিকদের সুরক্ষা বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ এবং সেখানে সামুদ্রিক বাণিজ্যের সুরক্ষা। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এই রুটটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, যার ওপর ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাও বহুলাংশে নির্ভর করে। এছাড়া, অসংখ্য ভারতীয় নাগরিক এই অঞ্চলে জাহাজকর্মী ও অন্যান্য পেশায় কর্মরত। সংঘাতের ফলে তাঁদের জীবন যাতে ঝুঁকিতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে পেজেশকিয়ানের কাছে জাহাজ ও ভারতীয় নাবিকদের অবাধ চলাচলের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন মোদী।

ভারত-ইরান স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব পুনরায় চিহ্নিত করা হয়। ভারতের জন্য চাবাহার বন্দর মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান প্রবেশদ্বার। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে ইরানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *