নন্দীগ্রামে প্রার্থী-সংকট: উপনির্বাচনে লড়াইয়ের আগেই ব্যাকফুটে তৃণমূল?

নন্দীগ্রামে প্রার্থী-সংকট: উপনির্বাচনে লড়াইয়ের আগেই ব্যাকফুটে তৃণমূল?

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন হলেও, ভোটের ময়দানে লড়াই শুরুর আগেই স্পষ্ট আধিপত্য তৈরি করেছে বিজেপি। যেখানে পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য নিজেদেরই পূর্ববর্তী জয়ের রেকর্ড ভাঙা, সেখানে শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে চলছে তীব্র ডামাডোল ও উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে পাওয়ার সংকট।

বিজেপির লক্ষ্য: ফলতার রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়া

২০২১ সালের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১,৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬-এর বিধানসভায় সেই জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৯,৬৬৫। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা পুনর্নির্বাচনে বিজেপি ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে বড় জয় পাওয়ার পর, সেই পরিসংখ্যানকেই নন্দীগ্রামের জয়ের মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীসহ স্থানীয় পদ্ম নেতাদের দাবি, এবার নন্দীগ্রামে বিজেপির লক্ষ্য অন্তত ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেওয়া। এমনকি বিজেপি নেতারা কটাক্ষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন।

গৃহকন্দলে জর্জরিত তৃণমূল

নন্দীগ্রামে শাসকদলের সংগঠন বর্তমানে কার্যত ত্রিধাবিভক্ত— মমতাপন্থী, ঋতব্রতপন্থী এবং এনসিপিআই-তৃণমূল।

  • স্থানীয় নেতৃত্বের ক্ষোভ: তৃণমূলের একসময়ের প্রভাবশালী মুখ শেখ সুফিয়ান ও আবু তাহের প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাকের (I-PAC) ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
  • প্রার্থী হওয়ার অনিচ্ছা: আবু তাহের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্দিনে “বলির পাঁঠা” হতে তিনি রাজি নন। সুফিয়ানের মতে, বহিরাগতদের দিয়ে দল চালনার ফলেই নন্দীগ্রামে তৃণমূল আজ শেষ।
  • প্রার্থী বাছাইয়ে সংশয়: অখিল গিরি ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়েই প্রার্থী দেওয়ার কথা বললেও, নন্দীগ্রামের কোনো ‘ভূমিপুত্র’ মুখকে তাঁরা দাঁড় করাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। সম্প্রতি জেলাশাসকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও তৃণমূলের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।

ময়দানে বাম ও কংগ্রেস

তৃণমূলের ভাঙনের সুযোগে রাজনৈতিক জমি পুনর্দখলের চেষ্টা করছে বামেরা।

  • বামফ্রন্ট: সিপিআই ও সিপিএমের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে জট পুরোপুরি না কাটলেও, নীচুতলার কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার ও দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
  • কংগ্রেস: তুলনামূলক দুর্বল সংগঠন সত্ত্বেও বাকিদের টেক্কা দিয়ে সবার আগে মিলন প্রধানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে চমক দিয়েছে কংগ্রেস।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও নন্দীগ্রামের নির্বাচনী পরিবেশ আপাতত শান্ত। তৃণমূল শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার মতো শক্ত প্রার্থী দাঁড় করাতে পারে নাকি বিজেপির একচেটিয়া রেকর্ড গড়ার পথ মসৃণ হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *