“তৃণমূল কারও বাপের সম্পত্তি নয়”, দলীয় প্রতীক নিয়ে দিল্লিতে বিস্ফোরক ঋতব্রত

নয়া দিল্লি: আসন্ন উপনির্বাচনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। মমতাপন্থী ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়— এই দুই শিবিরের বিরোধ নিষ্পত্তিতে শনিবার উভয় পক্ষকেই তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। দিল্লিতে কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের দীর্ঘ বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষ শিবির এবং দলের সর্বময় নেতৃত্বকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশন ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও নির্দিষ্ট পরিবার বা একক ব্যক্তির দল হতে পারে না; এটি টেক্কা দেওয়া কোটি কোটি সাধারণ কর্মীর ঘামঝরানো সংগঠন। খোদ দলনেত্রীকে বিঁধে তিনি বলেন, “কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়ে এসেছি— ‘না খাতা না বহি, জো ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কহে ওহি সহি’— এই সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া যায় না।”
দলীয় প্রতীক হাতছাড়া হওয়া নিয়ে কোনও সংশয় নেই দাবি করে ঋতব্রত জানান, বিকল্প কোনো প্রতীক নিয়ে কমিশন বৈঠকে আলোচনা হয়নি। নির্বাচন কমিশন যে সমস্ত নথি ও তথ্য তলব করেছিল, তার উপযুক্ত প্রমাণপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত দলের মূল সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
আসন্ন উপনির্বাচনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ সুনিশ্চিত করতে প্রতীক সংক্রান্ত এই আইনি জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি জানিয়েছে ঋতব্রত শিবির। এখন দুই পক্ষের জমা দেওয়া তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন জোড়াফুল চিহ্ন নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।