‘অভিষেকের ভয়েই চুপ ছিলাম!’ নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজসাক্ষী হতে চেয়ে সিবিআইকে বিস্ফোরক চিঠি সন্তুর

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের নতুন মোড়। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর কাছে রাজসাক্ষী হওয়ার আর্জি জানালেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সন্তুর দাবি, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়েই এতদিন তদন্তকারীদের কাছে আসল তথ্য গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি ও সিবিআই—উভয় সংস্থার চার্জশিটেই সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। দীর্ঘ এক বছর কারাবাসের পর বর্তমানে জামিনে মুক্ত এই ব্যবসায়ী সিবিআই-কে চিঠি দিয়ে জানান, মামলায় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তিনি এখন স্পষ্ট করে বলতে চান।
চিঠিতে সন্তু অভিযোগ করেন, প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির বিনিময়ে তাঁর ও অপর অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষের কাছ থেকে মোট ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। তবে সেই টাকা পুরোপুরি জোগাড় করতে না পেরে, সন্তুর ২২ লক্ষ এবং কুন্তলের ৩.২৮ কোটি—মোট প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দু’টি কালো ব্যাগে ভরা হয়। এরপর নিউ আলিপুরের ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর দফতরে গিয়ে সেই টাকা সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সন্তুর দাবি, নির্ধারিত টাকার চেয়ে দেড় কোটি টাকা কম থাকায় সুজয়কৃষ্ণ চটে গিয়ে বলেন, “সাহেব রেগে যাবেন।” এর পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে টাকা কম দেখে তাঁদের উপর চিৎকার করেন এবং বাকি টাকা জোগাড়ের জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না দিলে প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কুন্তল ও সন্তুর সংগৃহীত ওই সাড়ে তিন কোটি টাকা লুকিয়ে রাখার নির্দেশও অভিষেকই সুজয়কৃষ্ণকে দিয়েছিলেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিবিআই-কে লেখা চিঠির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরেই তিনি নানা দিক থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ সন্তুর। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ভয় কাটিয়ে এখন আদালতের নজরদারিতেই তদন্তকারীদের সমস্ত সত্যি জানাতে চান পার্থ-ঘনিষ্ঠ এই ব্যবসায়ী।